আজকাল ওয়েবডেস্ক: কিছুদিন আগে পাটনায় এক নিট পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে রীতিমত তোলপাড় রাজ্যে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল যুবতীকে। পাটনার হাসপাতালে দীর্ঘ দিন কোমায় ছিলেন যুবতী। শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় যুবতীর। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেন মৃত ছাত্রীর বাবা। সঠিক বিচার না পেলে সপরিবারে আত্মঘাতী হওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ঘটনায় পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল মঙ্গলবার মৃতার আত্মীয়-সহ বেশ কয়েক জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মৃতার বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ, "বিহার পুলিশের ওপর আমাদের কোনও ভরসা নেই। তদন্তের নামে পুলিশ আমাদেরই হেনস্থা করছে। আমরা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অধীনে তদন্ত চাই।" তিনি আরও জানান, স্থানীয় পুলিশ ও হস্টেল কর্তৃপক্ষ চক্রান্ত করে তদন্তকে বিপথে চালিত করছে। ইতিমধ্যেই হস্টেলের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ শুরুতে যৌন হেনস্থার কথা অস্বীকার করলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক রিপোর্টে অন্য ইঙ্গিত মিলেছে। ছাত্রীর পোশাকে মিলেছে বীর্যের নমুনা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ওই নমুনার মিল খোঁজা হবে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা। তিনি বলেন, "তদন্ত সঠিক পথেই চলছে। দোষীরা রেহাই পাবে না।" তবে পরিবারের তোলা হেনস্থার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর দাবি, কিছু মানুষ নিজের স্বার্থে তদন্তে বিভ্রাটের চেষ্টা করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে ওই ছাত্রীর হস্টেলটি সিল করে দিয়েছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী জাহানাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। পাটনার চিত্রগুপ্ত নগরের একটি বেসরকারি হস্টেলে থেকে তিনি পড়াশোনা করতেন। চলতি মাসের শুরুতে হস্টেলের ঘর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। টানা কয়েক দিন কোমায় থাকার পর ১১ জানুয়ারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই তরুণীকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে। পুলিশ তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ ঘিরেই উত্তাল হয়ে ওঠে পাটনা। আন্দোলনের মুখে পড়ে হস্টেল মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তে নেমে ‘সিট’-এর আধিকারিকেরা মঙ্গলবার হস্টেলটি পরিদর্শন করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা তল্লাশির পর সেটি সিল করে দেন। এর আগে তাঁরা মৃতার বাড়িতে গিয়েও কথা বলেন। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রীর। পাশাপাশি তিনি টাইফয়েডেও ভুগছিলেন। সম্প্রতি জন সূরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পুনর্তদন্তের দাবি জানান। তার পরেই তড়িঘড়ি এই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেন বিহারের ডিজিপি।
অন্যদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই পাটনার আরও এক হস্টেলে এক কিশোরী ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরীও নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ৬ জানুয়ারি এক্সিবিশন রোডের একটি হস্টেল থেকে তাঁর দেহ মেলে। এই ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোর হস্টেলে ঢুকে ছাত্রীকে হেনস্থা করেছিল।
