আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার হালভাদ তালুক থেকে এক শিউরে ওঠার মতো অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছে। স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে এক ৩৫ বছর বয়সী গৃহবধূকে গত তিন বছর ধরে টানা গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্যাতিতা মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর শ্বশুর ও ভাসুরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সেবাদাস রামানুজ (৭৫) এবং রাজেশ রামানুজ (৪২)। তারা দুজনেই বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পাশবিক অত্যাচার ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে প্রথমে মুখ খুলতে পারেননি ওই বধূ। অবশেষে সমস্ত ভয় ও পারিবারিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি স্থানীয় থানায় পৌঁছান এবং গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নির্যাতিতা তাঁর অভিযোগে অত্যন্ত ভয়ানক কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর যখন জানা যায় তাঁর স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম, তখন থেকেই বাড়ির পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। এই অক্ষমতাকে এক ধরণের হাতিয়ার বা 'অজুহাত' হিসেবে ব্যবহার করে বৃদ্ধ শ্বশুর সেবাদাস এবং ভাসুর রাজেশ তাঁর ওপর দিনের পর দিন যৌন নিপীড়ন চালাতে থাকে। যৌথ পরিবারে থাকার কারণে বিষয়টি জানাজানি হলেও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে খোদ ভুক্তভোগীর স্বামী তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে নিজের বাবা ও ভাইয়ের এই জঘন্য অপরাধকে মৌন সমর্থন দিয়ে গেছেন।
হালভাদ থানার সাব-ইন্সপেক্টর এ পি প্যাটেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতার সাথে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত দুই জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্যাতিতা মহিলার মানসিক অবস্থা এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁকে আপতত একটি সরকারি মহিলা আশ্রয় কেন্দ্রে (শেল্টার হোম) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং এই নৃশংস পারিবারিক নির্যাতনের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















