নিতাই দে, আগরতলা: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথমবারের মতো ত্রিপুরায় ইলেকট্রিক মেমু (MEMU) ট্রেন পরিষেবা চালু হল। শনিবার আগরতলার বাধারঘাট রেলস্টেশন থেকে আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা রুটে এই ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। তিনি একে রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরায় রেল পরিকাঠামোর আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সালে ত্রিপুরায় রেল পরিষেবার সূচনা হলেও দীর্ঘদিন উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়নি। পরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল সম্প্রসারণকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করলে ধর্মনগর-কুমারঘাট এবং পরবর্তীতে আগরতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ বিস্তৃত হয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ২৭০ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারিত হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় আগরতলা রেলস্টেশনকে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে এবং যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবার মানোন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

অনুষ্ঠানে পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ইলেকট্রিক মেমু ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও রাজ্যের রেল যোগাযোগকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, বিধায়িকা মীনা রাণী সরকার, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের লামডিং ডিভিশনের ডিআরএম সমীর লোহানী, পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার-সহ রেল ও রাজ্য প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উদ্বোধনের পর সবুজ পতাকা নেড়ে আগরতলা-করিমগঞ্জ ইলেকট্রিক মেমু ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন অতিথিরা।