জুলাই মাস থেকেই বাংলার ঘরে ঘরে বসতে চলেছে ‘স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার’। ইদানীং আমাদের চারপাশে এই শব্দটি প্রায়শই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তি আসলে কী, সাধারণ মিটারের সঙ্গে এর তফাত কোথায়, আর এতে সাধারণ মানুষের পকেটের সাশ্রয় আদৌ হবে কি না- তা নিয়ে অনেকের মনেই নানাবিধ প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে।
2
12
সহজ কথায়, এই মিটার ব্যবহারের মূল মন্ত্রটি হলো- ‘আগে টাকা, পরে বিদ্যুৎ’। ঠিক যেমনভাবে আমরা মোবাইল রিচার্জ করি, এটিও তেমনই এক প্রিপেইড ব্যবস্থা।
3
12
এদিকে রিচার্জের অঙ্ক নিয়ে অনেকের মধ্যেই ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই ভাবেন, রিচার্জের পুরো টাকাটাই বুঝি বিদ্যুৎ খরচের ইউনিটে কেটে নেওয়া হয়। বিষয়টি কিন্তু তা নয়। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ব্যবহার হোক বা না হোক, প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট ‘ফিক্সড চার্জ’ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়।
4
12
তাই অল্প টাকা রিচার্জ করলে তা দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং বারবার রিচার্জ করার ঝক্কি পোহাতে হয়।
5
12
স্মার্ট মিটারের কার্যকারিতা মূলত তিনটি ধাপে হয়।
এক, এই মিটারের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ভোল্টেজ ও কারেন্টের ওঠানামা মেপে বিদ্যুতের একেবারে নিখুঁত হিসেব রাখে।
6
12
দুই, মিটারে ইন-বিল্ট ওয়্যারলেস প্রযুক্তি (৪জি/৫জি বা জিগবি) থাকায় বাড়ির রিডিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভারে পৌঁছে যায়। ফলে কর্মীকে আর কষ্ট করে বাড়ি বাড়ি এসে রিডিং নিতে হয় না।
7
12
তিন, সার্ভারে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিল তৈরি হয়। এর ফলে কোন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা কেমন থাকছে, তাও সংস্থাগুলি সহজে বুঝতে পারে।
8
12
প্রতি মুহূর্তে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, তা গ্রাহকেরা নিজেরাই দেখতে পাবেন। বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা যাবে কোন যন্ত্রে বেশি বিল আসছে। ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে পকেটের সাশ্রয় করা সম্ভব।
9
12
আগে অনেক সময় অনুমানের ভিত্তিতে ভুল বা কাল্পনিক বিল আসার যে অভিযোগ উঠত, স্মার্ট মিটারে সেই আশঙ্কা আর নেই। যতটুকু খরচ, ঠিক ততটুকুরই বিল হবে।
10
12
বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লাইনে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে স্মার্ট মিটার নিজেই বিদ্যুৎ সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠায়। ফলে কর্মী এসে খোঁজার আগেই সংস্থা জানতে পেরে যায় কোথায় সমস্যা হয়েছে এবং দ্রুত তার সমাধান সম্ভব হয়।
11
12
উল্লেখ্য, রাজ্যের সমস্ত শিক্ষক, অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে এই ‘স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার’ বসানো বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।
12
12
শিল্পসংস্থার পরিচালন খরচ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে এই আধুনিক মিটার অত্যন্ত উপযোগী। বাংলায় এই ব্যবস্থা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সামান্য কিছু নিয়ম ও সচেতনতা বজায় রাখলে এই নতুন প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের চিন্তা দূর করবে এবং বিদ্যুতের খরচও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখবে।