আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'রাখে হরি তো মারে কে', ধুলো ভেবে সোনা ভর্তি বাক্স বিক্রি করে দিয়েছিলেন ফরিদাবাদের অশোক শর্মার পরিবার। পরে ভুল বুঝতে পারলেও সোনা ফেরৎ মেলেনি। শেষমেষ অবশ্য ঘটনার চার মাস পর সহৃদয় এক স্ক্র্যাপ ডিলার সেই সোনা অশোক শর্মার কাছে ফিরিয়ে দেন। 

অশোক শর্মা বলেন, তাঁর পরিবার সোনার গয়না একটি বাক্সে রেখেছিল। চুরি রোধ করতে গত বছরের জানুয়ারিতে কুম্ভ মেলায় যাওয়ার আগে সেই বাক্সই বাড়িতে একটি বস্তার ভিতরে রাখা হয়েছিল। তবে, দীপাবলিতে বাড়ি পরিষ্কারের সময়, ভুল করে সেই বস্তাটি আবর্জনা মনে করে  একজন স্ক্র্যাপ ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়! অশোক শর্মা বলেন, "কুম্ভ মেলায় যাওয়ার আগে আমরা সোনা নিরাপদে রেখেছিলাম। দীপাবলিতে ঘর পরিষ্কারের সময়, সেটি ভুলবশত স্ক্র্যাপ মনে করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমরা পরে আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছিলাম এবং খুব হতাশ হয়েছিলাম।"

বিষয়টি উপলব্ধি করে আশোক শর্মা স্ক্র্যাপ ডিলারের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সোনার গয়না খুঁজে পাওয়া যাননি। ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ওই বাক্সে প্রায় ১০০ গ্রাম সোনা ছিল। 

চার মাস পর ঘটনায় নয়া মোড় আসে। হাজি আখতার খান নামে পরিচিত স্ক্র্যাপ ডিলার পুরনো জিনিস বাছাই করার সময় কাগজে মোড়ানো সোনার বাক্স দেখতে পান। দেরি না করে তিনি পুলিশের কাছে আসেন। গয়নার বাক্সটি তিনি  বল্লভগড়ের এসিপি জিতেশ মালহোত্রার মালহোত্রার অফিসে জমা করেন। হাজি আখতার খান বলেন, "সোনা খুঁজে পাওয়ার পর, আমি বুঝতে পারি যে, এই সোনা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরৎ দেওয়া আমার দায়িত্ব। আমার পুরো পরিবার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।" 

এসিপি মালহোত্রা সৎ কাজের জন্য স্ক্র্যাপ ডিলার হাজি আখতার খানের কাজের জন্য প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, "সততা এখনও বেঁচে আছে। একই সঙ্গে, মানুষের তাদের মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি সতর্ক থাকা উচিত।"