আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তামিল রাজনীতিতে বড় দলবদল। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং এআইএডিএমকে-র বহিষ্কৃত নেতা ও পন্নিরসেলভম (ওপিএস) যোগ দিলেন শাসক দল ডিএমকে-তে। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের উপস্থিতিতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে)-তে যোগ দিলেন পন্নিরসেলভম।

তিনবারের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং জে জয়ললিতার দীর্ঘদিনের সহযোগী, এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) সঙ্গে তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পর ২০২২ সালে এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হন পন্নিরসেলভাম।

শুক্রবার সকালে পন্নিরসেলভমের আগে তাঁর ছেলে রবীন্দ্রনকে ডিএমকে সদর দপ্তরে পৌঁছাতে দেখা গিয়েছিল। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে সভাপতি এমকে স্ট্যালিন, ওপিএস-কে স্বাগত জানাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন। তারপরই হয় মেগাযোগদান।

সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে ওপিএস-কে তাঁর নিজের এলাকা থেনির বোদি মেট্টু আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে।

দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে, বিশেষ করে থেভার-অধ্যুষিত অঞ্চলে পন্নিরসেলভমের প্রভাব রয়েছে। থেভাদের সমর্থনের অধিকাংশ যায় এআইএডিএমকে-র দিকে। ফলে ওই অঞ্চলে ওপিএস-কে দিয়েই সংগঠন শক্তিশালী করতে মরিয়া ডিএমকে।

তামিলনাড়ুর তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ওপিএস ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পর দলের ভেতরে তীব্র ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এআইএডিএমকে-তে ভাঙন তৈরি করে। যার ফলে ওপিএস সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক ভিত্তি হারাতে থাকেন।

এআইএডিএমকে-তে একঘরে হওয়ার পর এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও পন্নিরসেলভমের দীর্ঘ লড়াই শুরু হয়। শেষে বহিষ্কার করা হয় ওপিএস-কে। বহিষ্কারের পর দীর্ঘদিন পন্নিরসেলভাম স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি 'এআইএডিএমকে ওয়ার্কার্স রিট্রিভাল অর্গানাইজেশন'-এর ব্যানারে পৃথক প্রচার শুরু করেছিলেন এবং নিজেকে জয়ললিতার প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তবে, তেমন সমর্থন পাননি।

সম্প্রতি, ওপিএস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, এমনকী ইপিএস-কে তার "বড় ভাই" বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে, ইপিএস সেই প্রস্তাবে কর্ণপাত করেননি। স্পষ্ট বলেছিলেন যে,  "ওপিএস-কে দলে ফেরানোর কোনও সম্ভাবনা নেই।"

ডিএমকে সূত্র অনুসারে,ওপিএস বলেছেন যে তিনি বিজেপির উপর অসন্তুষ্ট। অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি পালানিস্বামীকে জোটে স্থান দেওয়ার জন্য রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্য কোনও উপায়ে তাকে কোনও অর্থপূর্ণ সমর্থন দেয়নি।

ডিএমকে-তে যাওয়ার আগে, পন্নিরসেলভাম তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্যের মাধ্যমে আনুগত্য পরিবর্তনের বিষয়ে জোরালো ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন যে,  ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-এর ক্ষমতা ধরে রাখার এবং টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই নেতা একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।

গত বছরের জুলাই মাসে, ওপিএস গোষ্ঠী বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বিজেপি-ও. পন্নিরসেলভামের ডিএমকে যোগদানের সিদ্ধান্তকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করে বলেছে- এই পদক্ষেপের এনডিএ-তে কোনও প্রভাব পড়বে না। দলের নেতা তামিলিসাই সৌন্দরারাজন বলেছেন যে পন্নিরসেলভমের "পদক্ষেপ ইতিহাসে চাপা পড়ে যাবে। তিনি হতাশ ছিলেন। আমরা এই পদক্ষেপের আন্দাজ করেছিলাম। ওপিএসের সম্পূর্ণ বিপরীত দলে যোগদান আমার দেখা সবচেয়ে অকৃতজ্ঞের কাজ। মানুষ এটা মেনে নেবে না। এটা ডিএমকে-র করুণ পরিস্থিতির প্রতিফলন।"

তামিলনাড়ুতে চলতি বছরের মে মাসের আগে নির্বাচন হতে চলেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, ডিএমকে এককভাবে ১৩৩টি আসন পেয়েছিল। ডিএমকে-র নেতৃত্বাধীন শক্তি ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোট (এসপিএ) পেয়েছিল ১৫৯টি আসন। এনডিএ জোট ৭৫টি আসন জিতেছিল, এআইএডিএমকে ৬৬টি আসন পেয়েছিল।