আবু হায়াত বিশ্বাস: গত এক দশকে দেশের উচ্চ আদালতগুলির বর্তমান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে মোট ৮,৬৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। শুক্রবার লোকসভায় লিখিতভাবে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক। লোকসভায় সাংসদ মথেশ্বর ভিএসের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল।
তামিলনাড়ুর ডিএমকে সাংসদ জানতে চেয়েছিলেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, যৌন অসদাচরণ বা অন্যান্য গুরুতর অনিয়ম সংক্রান্ত কতগুলি অভিযোগ পেয়েছে সরকার। আইন মন্ত্রকের লিখিত এই প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৮,৬৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই তথ্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত ডেটার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রকের জবাবে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগের নিষ্পত্তি বা তার অগ্রগতি সংক্রান্ত কোনও পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হয়নি।
আরও একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা গুরুতর অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কোনও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা ডাটাবেস আছে কি না। উত্তরে জানানো হয়েছে, ‘ইন-হাউস প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরাই এই ধরনের অভিযোগ গ্রহণ ও বিবেচনার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।এছাড়া কেন্দ্রীয় জনঅভিযোগ নিষ্পত্তি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগও সংশ্লিষ্ট প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
তবে বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুশৃঙ্খল নথিভুক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করবে কি না—এই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেয়নি কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক।
