আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোপালে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে গাড়ির ভেতর গণধর্ষণ করা হল। শুধু তাই নয়, ছাত্রীকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তেরা গোটা ঘটনার ভিডিও করে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে৷ অভিযুক্তদের নাম আউসাফ আলি খান এবং মাজ খান।

পুলিশ সূত্রে খবর, শাহপুরা এলাকার একটি নামী স্কুলে পড়ত ছাত্রী। ছাত্রীর সঙ্গে আউসাফের আলাপ হয়েছিল এক বন্ধুর মাধ্যমে। অভিযোগ, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আউসাফ মেয়েটিকে গাড়িতে করে ঘুরতে নিয়ে যায় এবং খানুগাঁওয়ের একটি নির্জন জায়গায় গাড়ির ভেতরেই তাকে ধর্ষণ করে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাটি আগে থেকেই ছক কষা ছিল। আউসাফের বন্ধু মাজ খান, সে পেশায় এক জিম মালিক, অন্ধকারের সুযোগে গাড়ির বাইরে থেকে গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়েই শুরু হয় হুমকি। ১ লক্ষ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা জানায়, টাকা না দিলে ভিডিওটি ‘ভাইরাল’ করে দেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ছাত্রী কোনওমতে ৪০ হাজার টাকা দিলেও তাতে রেহাই মেলেনি। অভিযোগ, দুটি সেডান ও একটি মহিন্দ্রা থার-সহ মোট চারটি আলাদা আলাদা গাড়িতে মেয়েটির ওপর বারংবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে পুলিশ গাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে।

ছাত্রীটি এক সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আউসাফ তখন ভিডিওটি মেয়েটির বন্ধুদের পাঠিয়ে দেয় এবং তাকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ। শেষে উপায় না দেখে পরিবারের সাহায্য নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই কিশোরী।

দুই অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না বা অন্য কোনও মহিলা এদের শিকার হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে এসিপি-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আউসাফকে আদালতে তোলার সময় একদল আইনজীবী তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন।