আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ বন্ধু মিলে গিয়েছিল গ্রামের নির্জন মাঠে। কিন্তু ঘরে ফিরল মাত্র এক জন। বিষের স্বাদ কেমন, তা পরখ করে দেখতে গিয়ে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় মৃত্যু হল চার কিশোরীর। গত ২৯ জানুয়ারি মোতি বিঘা গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার একমাত্র সাক্ষী এক কিশোরী। জানা গিয়েছে সে'ই একমাত্র প্রাণে বেঁচেছে। ওই কিশোরীর দাবি, বক মারার বিষ খেতে কেমন, তা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। সে জানায়, “এক বন্ধু বলল, খেয়েই দেখি না কী হয়! ওরা জল দিয়ে বিষটা গিলে নিল। আমি অল্প একটু মুখে দিয়ে থুথু করে ফেলে দিয়েছিলাম।” ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সি চার কিশোরী তার চোখের সামনেই লুটিয়ে পড়ে। পরিবারের তৎপরতায় এবং তড়িঘড়ি নিমপাতার রস খাইয়ে বমি করানোর ফলে প্রাণে বেঁচে যায় ওই কিশোরী।

যদিও পুলিশের দাবি অন্য। তদন্তকারীদের অনুমান, সরস্বতী পুজোর দিন কিছু ছেলের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করায় বাড়ির লোক বকাবকি করেছিল। সেই অভিমানেই ওই পাঁচ কিশোরী একসঙ্গে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে মৃত এক কিশোরীর বাবা পুলিশের এই ‘প্রেমঘটিত’ তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর প্রশ্ন, “এত ছোট ছোট মেয়েগুলো প্রেমে পড়বে কী করে?”

চরম দারিদ্র্য আর সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে সরকারি আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা করেনি পরিবারগুলি। চার কিশোরীকে একই চিতায় দাহ করা হয়েছে। পুলিশ ওই নাবালিকার বয়ান নথিভুক্ত করে ঘটনার সব ক’টি দিক খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, ইউটিউবে নাম করার নেশা আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারার হতাশা- দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ঝাড়খণ্ডের গাড়োয়ায় এক যুবক যা ঘটালেন, তা দেখে শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা। নিজের তিল তিল করে গড়া স্টুডিওতে আগুন লাগিয়ে দিলেন ২৭ বছরের যুবক বিধায়ক প্রজাপতি। অল্পের জন্য তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও, পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়োয়ার মেরালে নিজের বাড়িতেই ফিল্ম এডিটিং ও ডিজিটাল স্টুডিও খুলেছিলেন বিধায়ক। স্বপ্ন ছিল বড় ইউটিউবার হওয়ার। সেই স্বপ্নপূরণে পৈতৃক জমি বিক্রি করে নামী দামী ক্যামেরা, কম্পিউটার আর সাউন্ড সিস্টেম কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু মাস গড়ালেও সাফল্যের মুখ দেখেননি। প্রতিবেশীদের দাবি, এর ফলেই মানসিক অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন যুবক। দীর্ঘদিনের অবসাদ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেন৷ 

শনিবার রাতে অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই বিধায়ক নিজেকে স্টুডিওর মধ্যে বন্দি করে ফেলেন। রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে ঘর। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। এদিকে বাড়ির লোহার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় আটকে পড়েন পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাঁদের চিৎকার শুনেই ছুটে আসেন স্থানীয়রা, খবর দেওয়া হয় পুলিশে। শেষে দেওয়াল ভেঙে সকলকে উদ্ধার করে পুলিশ ও প্রতিবেশীরা।

পরিবার সূত্রে খবর, আগুন লাগানোর পরেই বাড়ির পিছনের দেওয়াল টপকে পালিয়েছিলেন বিধায়ক। রবিবার সকালে তাঁকে খুঁজে পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য রাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড় আর সাফল্যের চাপ কীভাবে এক অল্প বয়সি যুবককে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিল, তা ভেবেই এখন থমথমে গোটা গ্রাম।