আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি পর্ব কার্যত শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি দিল্লি সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেখানে তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি থাকবেন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্তারা। মূলত রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত বিষয়েই হবে এই আলোচনা।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজ নিজ জেলার বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সাপ্তাহিক রিপোর্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে জমা দিতে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসবে কোন জেলায় কত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, কোথায় অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা কৌশল কী হবে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির ঘড়ি ইতিমধ্যেই ঘুরতে শুরু করেছে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, ৫ ও ৬ জানুয়ারি দিল্লিতে দুই দফায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। রাজ্যের নোডাল অফিসাররাও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেবেন। এই বৈঠকেই নির্বাচন সুরক্ষা ব্যবস্থা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
চমকপ্রদভাবে জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত সুরক্ষাই নয়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সদ্য স্থানান্তরিত দপ্তরের সুরক্ষা এবং CEO-র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনার তালিকায় রয়েছে। কমিশন সূত্রের দাবি, অন্যান্য বহু রাজ্যে যেখানে CEO-দের ক্ষেত্রে এই ধরনের কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেই একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এবং রাজ্যের CEO দপ্তর আলাদাভাবে কোনও আবেদন করেনি।
এদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কয় দফায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “যদি অন্য রাজ্যে এক বা দুই দফায় নির্বাচন হতে পারে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন নয়?” এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন উত্তরবঙ্গের লাভা এলাকার বিডিও নিয়োগ নিয়ে বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির দাবি, সংশ্লিষ্ট বিডিও-র নিয়োগ অসাংবিধানিক এবং তিনি ভারতীয় নাগরিক নন। এই অভিযোগে কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাঁর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সমস্ত নথি বৈধ। ফলে এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়িতে নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার এক বুথ লেভেল অফিসার এবং তাঁর সুপারভাইজারকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেখানে শুনানি পর্বে ৪০ জন ভোটারকে ডাকার কথা ছিল, সেখানে ১৬৯ জন ভোটারকে ডেকে পাঠানো হয়। কেন এই অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ৫ জানুয়ারির দিল্লি বৈঠককে কেন্দ্র করেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির রূপরেখা তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সুরক্ষা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনিক নজরদারি এবং ভোট পরিচালনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
