আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও নগ্ন করে একটানা দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হত, কখনও বা পুরুষাঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হত ডাম্বেল, আবার কখনও সারা গায়ে কম্পাস গেঁথে গেঁথে শারীরিক নির্যাতন করা হত। কেরলের এক সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভয়াবহ র‌্যাগিংয়ের কাহিনি প্রকাশ্যে আনলেন প্রথম বর্ষের একাধিক পড়ুয়া। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কোট্টায়ামের একটি সরকারি নার্সিং কলেজে। সম্প্রতি তিরুবনন্তপুরমের বাসিন্দা, প্রথম বর্ষের তিন নার্সিং পড়ুয়া থানায় একাধিক সিনিয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কলেজের তৃতীয় বর্ষের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের অভিযোগ, নিত্যদিন হস্টেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন সিনিয়রা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নগ্ন করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলতেন। মারধর করতেন। জ্যামিতি বাক্স থেকে কম্পাস বের করে গায়ে গেঁথে দিতেন। পুরুষাঙ্গে ঝুলিয়ে দিতেন ডাম্বেল। ক্ষতের উপর একধরনের লোশন চেপে চেপে লাগিয়ে দিতেন। যাতে আরও জ্বালা করে। চিৎকার করলে, সেই লোশন মুখে ঢুকিয়ে দিতেন। জুনিয়রদের থেকে টাকা তুলে হস্টেলের ঘরেই মদ্যপান করতেন তাঁরা। 

র‌্যাগিংয়ের ভিডিও তুলে রাখতেন সিনিয়ররা। সেই ভিডিও ফাঁস করলে আরও নির্যাতনের হুমকি দিতেন। তিনমাস টানা শারীরিক নির্যাতন সহ্য করার পর সম্প্রতি থানায় অভিযোগ জানান পড়ুয়ারা। অভিযোগ ভিত্তিতে অ্যান্টি-র‌্যাগিং আইনে মামলা রুজু করে পাঁচজন পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।