আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আশার আলো দেখানো হলেও, বাস্তব বরাদ্দের চিত্র অনেকটাই হতাশাজনক।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪-২৫-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, দেশের যুবসমাজের মানসিক সুস্থতা অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম মূলভিত্তি। অথচ বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ রইল মোট স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বাজেটের মাত্র ১%— মাত্র ১,০০৪ কোটি টাকা।
এই অর্থের ৯২%-ই বরাদ্দ হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন নিইমহ্যানস (NIMHANS), বেঙ্গালুরু এবং এলজিবিআরআইএমএইচ (LGBRIMH), তেজপুর-এর জন্য। দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকার জন্য কার্যকর ‘ডিস্ট্রিক্ট মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’ বা টেলি মানস-এর মতো প্রকল্পগুলি পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছে না।
টেলি মানস-এর বরাদ্দ কমে ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩-২৪ সালে ছিল ১৩৪ কোটি। ফলে পরিষেবার প্রসার এবং গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক না হয়ে, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত হওয়া উচিত। বিশেষত, আত্মহত্যার পিছনে ৭% ক্ষেত্রে আর্থিক অসুবিধা দায়ী— এমন তথ্য সামনে এসেছে ২০২২ সালের রিপোর্টে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা যেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক তুলে ধরেছে, সেখানে বাজেটের এই ‘সাংকেতিক স্বীকৃতি’ নয়, চাই বাস্তবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ। দেশকে সত্যিই যদি অর্থনৈতিকভাবে এগোতে হয়, মানুষের মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি—এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপের।
















