আজকাল ওয়েবডেস্ক: সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে মিথ্যে তথ্য ছড়াচ্ছে দক্ষিণের রাজ্যগুলি। সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬ বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি তথ্য পেশ করে তিনি দাবি করলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে লাভবান হবে দক্ষিণের রাজ্যগুলি।
বৃহস্পতিবার পেশ করা সংবিধান সংশোধনী বিলগুলির বিরুদ্ধে বিরোধী দল দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তারা নারী সংরক্ষণের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু, সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে সীমানা পুনর্বিন্যাসকে যুক্ত করার সরকারি পদক্ষেপ ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য নিজেদের সুবিধার্থে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের একটি সুবিধাবাদী পরিকল্পনা। বিরোধীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে জনসংখ্যাভিত্তিক সীমানা পুনর্বিন্যাস দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে সংসদের সংখ্যালঘু করে দেবে। এর ফলে হিন্দিভাষী অঞ্চলই চালকের আসনে চলে আসবে।
তাদের যুক্তি হল, এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যকে সংসদে সমান গুরুত্ব ও প্রতিনিধিত্ব দেওয়া উচিত। যদিও কেন্দ্র বিরোধীদের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, পরিকল্পিত ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ ভারতের প্রতিটি রাজ্যই আরও বেশি আসন পাবে।
শাহ উদাহরণ দিয়ে বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে তামিলনাড়ু আরও ২০টি, কেরল ১০টি, তেলেঙ্গানা ৯টি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ১৩টি আসন পাবে। উত্তরপ্রদেশের পর লোকসভায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক সাংসদ থাকা মহারাষ্ট্র আরও ২৪টি আসন পাবে। মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং তারপর আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ পৌঁছয়।
বিরোধীরা দাবি করেছে, মহিলা সংরক্ষণ বিলটিকে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল থেকে আলাদা করা হলে তারাও আর কোনও বাধা দেবে না। সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। একটি সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সংসদের প্রতিটি কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
লোকসভার কার্যকর সদস্য সংখ্যা ৫৪৩ হওয়ায়, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৩৬০টি আসন। শাসকদল এনডিএ-র ২৯৩ জন সদস্য থাকায়, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৬৭টি আসন কম রয়েছে। রাজ্যসভার জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা হলো ১৬৩ এবং এনডিএ-র ১৪২-এর বেশি সদস্য থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের ২১টি আসন কম রয়েছে।















