আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১০ কিলোমিটার লম্বা দিল্লি-দেহরাদুন্য এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন। ১২ হাজার কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এই নতুন রাস্তার দৌলতে দিল্লি থেকে দেহরাদুনে পৌঁছনো যাবে মাত্র আড়াই ঘণ্টায়। আগে যেখানে সময় লাগত ৬ ঘণ্টা, এখন তা সাড়ে তিন ঘণ্টা কমে যাচ্ছে। আরেকদিকে, নতুন রাস্তার জেরে ওই সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমির দাম বাড়বে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দেড়-দু’বছরের মধ্যে এই রাস্তার ধারের এলাকাগুলোতে জমির দাম ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলে সেখানে থাকার চাহিদা বাড়ে, আর চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে।
অ্যাডভাইজার্স’-এর কর্ণধার বিশাল রাহেজার কথায়, এই নতুন রাস্তা দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমির বাজারদর আমূল বদলে দেবে।
দিল্লি সংলগ্ন নারেলা, বাওয়ানা বা সাহিবাবাদের মতো এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই লগ্নিকারীরা ভিড় করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে অল্প দামের প্লট, মাঝারি দামের ফ্ল্যাট এবং ভিলার খোঁজে আসছেন বহু মানুষ।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের বাগপত, শামলি বা সাহারানপুরের মতো জায়গাগুলোতেও জমির খোঁজখবর শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখানে ‘ফার্মহাউস’ তৈরির কথা ভাবছেন। ফলে এতদিন যে এলাকাগুলো কিছুটা অবহেলিত ছিল, এখন সেখানেই শুরু হয়েছে জমি কেনা নিয়ে চাপা লড়াই।
দেহরাদুনের কাছে ডোইওয়ালা বা রাজপুর রোডের মতো পাহাড়ি এলাকায় এখন হলিডে হোম বা হোম-স্টের চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী সময়ে ‘বাড়ি থেকে কাজ’ শুরু হওয়ায় অনেকেই দূষণমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে নিজের আস্তানা খুঁজছেন।
‘সিক্কা গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান হরবিন্দর সিং সিক্কার মতে, যাতায়াতের পথ সুগম হলে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন বদলে যায়। উন্নত পরিকাঠামো কেবল জমির দাম বাড়ায় না, এলাকার সামগ্রিক ভোল বদলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, দিল্লির সীমানা ও নয়ডার সঙ্গে এই রাস্তার সরাসরি সংযোগ ঘটায় এখানে বাড়তি সুবিধা মিলবে। তবে কেবল বাড়িঘর নয়, এই রাস্তার ধারে আগামী দিনে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, নামী দোকান এবং অফিস চত্বরও গড়ে উঠবে। ‘নিম্বাস গ্রুপ’-এর সিইও সাহিল আগরওয়ালের কথায়, উন্নত রাস্তার হাত ধরে এখানে যে বাণিজ্যিক বিপ্লব আসতে চলেছে, তাতে লাভবান হবেন সাধারণ মানুষ থেকে লগ্নিকারী- সকলেই।
















