আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা মহানগর গ্যাস লিমিটেড (এমজিএল) শনিবার মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চল জুড়ে ঘরোয়া পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি)-এর দাম ইউনিট প্রতি ৫০ পয়সা এবং সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)-এর দাম কেজি প্রতি ২ টাকা বাড়িয়েছে। মুম্বই, থানে, নভি মুম্বই এবং মেট্রোপলিটন অঞ্চলের অন্যান্য অংশে পিএনজি-র দাম এখন প্রতি ইউনিট ৫২ টাকা হবে, যেখানে সিএনজি-র দাম প্রতি কেজি ৮৬ টাকা।

এমজিএল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অভ্যন্তরীণ গ্যাসের বরাদ্দ কমে যাওয়া, উচ্চমূল্যের গ্যাস উৎসের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় টাকার দরের পতনের কারণে গ্যাস সংগ্রহের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক দাম বেড়েছে।” 

মুম্বইয়ে সিএনজির দাম সর্বশেষ ১৪ মে সংশোধন করা হয়েছিল, যখন প্রতি কেজিতে ২ টাকা দাম বাড়ানো হয়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সিএনজি-নির্ভর ব্যক্তিগত যানবাহন মালিক, ট্যাক্সি এবং গণপরিবহন সংস্থাগুলির খরচ বাড়বে। যদিও প্রতি কিলোমিটারের হিসাবে এই জ্বালানি পেট্রল ও ডিজেলের চেয়ে এখনও সস্তাই।

গত সোমবার প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি চতুর্থ বার মূল্যবৃদ্ধি। মুম্বইয়ে বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৭.৮৩ টাকা।

গত ২৬ মে দিল্লিতে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)-এর দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ১৫ মে-র পর যা চতুর্থবার মূল্যবৃদ্ধি। দেশের রাজধানীতে এখন প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম ৮৩.০৯ টাকা। 

সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি একটি ধারাবাহিক প্রভাব সৃষ্টি করে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যযাত্রী, ক্যাব চালক এবং অটো চালকদের খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। এছাড়া, পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পায়, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরো মূল্যও বেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মাসে নাগরিক ও সরকারি দপ্তরগুলিকে জ্বালানি সাশ্রয়, বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, জ্বালানির উচ্চমূল্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং চলতি বছরের আর্থিক ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।