আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপরিশোধিত তেলের দাম ব্য়ারেল প্রতি বেড়ে হয়েছে ১১৯ ডলার (২৯ শতাংশ বৃদ্ধি)। এই অবস্থায় আমেরিকা সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে ভারতে তেলের চাহিদায় কোনও প্রভাব পড়বে না।
৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর এই ছাড়ের ফলে ভারতীয় পরিশোধকরা রাশিয়ান তেল গ্রহণ করতে পারবেন। ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানির উপর নির্ভর করছে আরোপিত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক জরিমানার বিষয়টি।
এই পদক্ষেপটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারকের জন্য স্বস্তি দেখাচ্ছে। তবে পরিসংখ্যান অন্য কতা বলে।
নোমুরার প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মা বলেছেন যে, এই ছাড়ের আওতায় আটকে থাকা রাশিয়ান পণ্যগুলি ভারতের বিশাল জ্বালানি ক্ষুধার একটি অংশ মাত্র।
নোমুরার হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় তেল পরিশোধকরা ১ কোটি ব্যারেলেরও বেশি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কিনেছে। ভারতের সমুদ্রসীমায় প্রায় ১৫ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে, আরও ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল সিঙ্গাপুরের কাছে রয়েছে। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর এবং সুয়েজ খাল দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কারগুলিও ভারতীয় বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পুরো তেলের চাহিদা পূরণ হলেও, সরবরাহের পরিমাণ খুবই কম। অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মা বলেছেন, "মজুদ অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ, ভারতের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় চার দিনের সমান> কিন্তু কোনও এতে পরিবর্তন হয়নি। কারণ তেল মজুদের পরিমাণ বাড়েনি।"
়
ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে, যার অর্থ আটকে থাকা পণ্যবাহী জাহাজগুলি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সিস্টেম থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, বিশ্ব বাজারে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের তেলের এক পঞ্চমাংশ তেল বহনকারী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কায় গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার, ব্রেন্ট ফিউচারের দাম সংক্ষিপ্তভাবে ১১৯.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর রেকর্ড।
এক সপ্তাহেই এই মানদণ্ড ২২ শতাংশের এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের জন্য, প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। ফলে এ দেশের পক্ষে তেল সরবরাহের সুযোগ কম এবং অর্থনীতিতে দামের ধাক্কা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল সেই দুর্বলতা কমিয়ে এনেছিল, এক পর্যায়ে ভারতের আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করেছিল। সেই নির্ভরতা ইতিমধ্যেই কমে গিয়েছে।
নোমুরা-র অনুমান, রাশিয়া ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ব্যারেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করেছিল। যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের সরকারি তথ্য অনুসারে এই অংশ ২৫ শতাংশের এর কাছাকাছি দেখানো হয়েছে। এর অর্থ হল, এই ছাড় একটি লজিস্টিক বাধা দূর করে কিন্তু ভারতকে বৃহত্তর জ্বালানি ঝড় থেকে রক্ষা করতে খুব কমই সাহায্য করে।
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, অপরিশোধিত তেলের দামের প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে প্রায় ৩০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে পারে এবং জিডিপি বৃদ্ধিকে প্রায় ১৫ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পারে।
তেলের দাম এক সপ্তাহে ২০ শতাংশেরও বেশি লাফিয়ে ওঠায়, সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সাময়িক স্বস্তি ফিকে হতে পারে।
বাজার ইতিমধ্যেই অস্থির। আমদানি বৃদ্ধি, রুপির চাপ এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম নিফটি ৫০-এর বিপরীত দিকে চলে। অন্য কথায়, এই ছাড় ভারতকে কয়েক দিনের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের সুযোগ করে দিতে পারে।
