আজকাল ওয়েবডেস্ক: মদন দিলাওয়ারের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজস্থানে। রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশি গরুর দুধ শিশুদের বুদ্ধি ও শক্তি বাড়ায়।

কিন্তু মোষের দুধ তাদের অলস ও মন্দবুদ্ধি করে তোলে। কোটা জেলার একটি ‘গো-সংরক্ষণ ও গোচারণ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলাওয়ার এই বক্তব্য রাখেন।

তারপর এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে গরু এবং মোষের দুধের মধ্যে তুলনা টানেন তিনি।

তাঁর মতে, দূর থেকে একটি বাছুরকে তার মাকে খুঁজে নিতে বললে গরুর বাছুর সরাসরি মায়ের কাছে দৌড়ে যাবে, কিন্তু মহিষের বাছুর সেই একই কাজ করতে হিমশিম খাবে।

যা নাকি তাদের খাওয়া দুধের মানসিক প্রভাবের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, দুই বাছুরকে পেট ভরে খাওয়ানোর পর মহিষের বাছুর কাশতে কাশতে ঘুমিয়ে পড়বে, অথচ গরুর বাছুর লাফিয়ে বেড়াবে এমনকী, ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে’।

এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে বিজ্ঞান কি দিলাওয়ারের এই দাবিকে সমর্থন করে? পুষ্টিবিদ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর দুধ শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহিষের দুধে সাধারণত বেশি চর্বি থাকে প্রায় ৬ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলে এটি বেশি ক্যালোরি সমৃদ্ধ। একই সঙ্গে এতে সামান্য বেশি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ থাকে, যা স্নায়ুর স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং ডিএনএ সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টি গবেষক ডা. সীমা গুলাটি জানান, এই পার্থক্যগুলো শিশুদের বুদ্ধিমত্তায় কোনও পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ক্যালোরি গ্রহণের প্রয়োজন হলে কখনও কখনও গরুর দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দিল্লির এক অলাভজনক সংস্থা ন্যাশনাল ডায়াবেটিস, অবেসিটি অ্যান্ড কোলেস্টেরল ফাউন্ডেশনের পুষ্টি গবেষণা বিভাগের প্রধান ডা. গুলাটি বলেন, আয়োডিনের মতো মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির মাত্রা মূলত পশুর খাদ্যের ওপর নির্ভর করে।

গরু বা মোষ প্রজাতি নয়, খাদ্যই এখানে মূল নির্ধারক। অতএব, গরুর দুধ বনাম মোষের দুধ এই তুলনা শিশুদের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।