আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের ভাদোদারা শহরে এক অদ্ভুত ঘটনা সামনে এসেছে। দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে নিজের স্কুলেই বোমা হামলার ভুয়ো হুমকি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। উদ্দেশ্য ছিল বোর্ড পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া। 

ঘটনাটি ঘটে ৫ মার্চ। সেদিন ভোর প্রায় ৩টে ৪৩ মিনিটে একটি বার্তা আসে এক শিক্ষকের মোবাইলে। এই বার্তাটি পান গণিত শিক্ষক সন্তোষ কুমার তিওয়ারি। তিনি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তিন নম্বর মকরপুরের শিক্ষক। বার্তাটি এসেছিল হোয়াটস্যাপে। নম্বরটি ছিল আন্তর্জাতিক। এর শুরুতে ছিল +1 কান্ট্রি কোড। বার্তাটি প্রথমে লেখা ছিল আরবি ভাষায়। অনুবাদ করলে তার অর্থ দাঁড়ায়— “আগামীকাল আপনাদের স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈশ্বর মহান(আল্লা হু আকবর)।” 

সকাল ৮টার দিকে শিক্ষক মেসেজটি দেখেন। এরপর তিনি দ্রুত বিষয়টি জানান স্কুলের প্রধানশিক্ষক জিতেন্দ্র কুমার ধাদোচকে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। এই হুমকির পরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মকরপুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে অবস্থিত এই স্কুলে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। স্কুলের ভিতরে ও আশপাশে তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোথাও কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই হয়। 

প্রাথমিক তদন্তের পরে ১২ মার্চ একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলাটি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এই মামলায় দায়ের হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(৩), ৩৫১(৪), ৬১(২) ধারার এবং ইনফর্মেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট ২০০০-এর ৬৬-সি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। পরে তদন্ত শুরু করে ভাদোদারা সাইবার ক্রাইম সেল। সাইবার সেলের তদন্তে চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসে। এই হুমকি পাঠিয়েছিল স্কুলেরই এক দশম শ্রেণির ছাত্র। সে একটি ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করেছিল। তার আশা ছিল, হুমকির কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে বোর্ড পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি ছিল ভুয়ো। এটি শুধু দুষ্টুমি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এখন যেহেতু অভিযুক্ত একজন নাবালক, তাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

এই ঘটনার পরে পুলিশ ও প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে। পরীক্ষার সময়ে অনেক ছাত্র মানসিক চাপে থাকে। তাই তাদের কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তা খুব প্রয়োজন বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে সেই চাপেরই একটি চরম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।