আজকাল ওয়েবডেস্কঃ কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার এখন আর কোনও দূরবর্তী সম্ভাবনা নয়। বরং এক রুঢ় বাস্তব। সম্প্রতি 'মাইকেল পেজ'-এর সর্বশেষ 'ট্যালেন্ট ট্রেন্ডস ২০২৬ ইন্ডিয়া' রিপোর্টের এক চমকপ্রদ তথ্যে উঠে এসেছে। ভারতের কর্মক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ৭৩ শতাংশ পেশাদার তাদের দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে 'জেনারেটিভ এআই' ব্যবহার করছেন। মাত্র দুই বছর আগেও এই হার ছিল ৪৭ শতাংশ।

 

এআই ব্যবহারে হঠাৎ দ্রুত বৃদ্ধি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আটকে নেই। বরং দেশের লক্ষ লক্ষ পেশাদারের কর্মজীবনের একটি অপরিহার্য ও নিয়মিত অংশে পরিণত হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, পরিকাঠামো, ইলেকট্রিক ভেহিকল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিল্প ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের ফলেই এই শহরগুলিতে বেতনের গ্রাফ চড়চড় করে বাড়ছে। রিপোর্টে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। এআই এখন আর শুধু আইটি টিম বা প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লেখালেখি, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সব ক্ষেত্রের কর্মীরাই এখন রমরমিয়ে এআই টুল ব্যবহার করছেন। রিপোর্টটি এই পরিবর্তনকে 'এআই উন্মাদনা থেকে অভ্যাস'-এ রূপান্তরিত হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, চাকরি খোঁজা এবং চাকরি দেওয়া—উভয় পক্ষই এখন সমানভাবে এআই-এর ওপর নির্ভরশীল।

 

বর্তমানে নিজেদের সিভি আরও আকর্ষণীয় করতে, গুছিয়ে লিখতে এবং 'অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম' -এর উপযোগী করে তুলতে প্রার্থীরা দেদার এআই ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, ইন্টারভিউয়ের প্রশ্ন তৈরি, চাকরির বিবরণ লেখা এবং প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগের প্রক্রিয়া সহজ করতে রিক্রুটাররাও এআই-এর সাহায্য নিচ্ছেন।

 

সাধারণত এআই নিয়ে আলোচনা মানেই গণহারে চাকরি হারানোর আশঙ্কা। কিন্তু এই রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। সামগ্রিক কর্মক্ষেত্রের মাত্র ৩৩ শতাংশ কর্মী এআই-এর কারণে দীর্ঘমেয়াদী চাকরি সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। তবে, যাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব কম, তাঁদের মধ্যে এই উদ্বেগ অনেক বেশি। অস্থায়ী কর্মী ৬৫ শতাংশ, শিক্ষানবিশ ৬৪ শতাংশ, ফ্রিল্যান্সার ৬০ শতাংশ এবং মোট কর্মীসংখ্যার ৩৩ শতাংশ এআই এবং চাকরি সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। যাঁরা ইতিমধ্যেই কর্মক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, এআই নিয়ে ভয়টা তাঁদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

 

এআই-এর সাহায্যে প্রার্থীরা নিখুঁত আবেদনপত্র তৈরি করলেও, ৮১ শতাংশ নিয়োগকর্তার দাবি, তাঁরা সিভি দেখলেই বুঝতে পারেন সেখানে এআই ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। তবে ১৯ শতাংশ এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। যেহেতু এআই-এর কারণে সবার সিভি-ই এখন দারুণ ঝকঝকে হয়ে উঠছে, তাই নিয়োগকর্তারা এখন এমন কিছু গুণের ওপর জোর দিচ্ছেন যা প্রযুক্তি নকল করতে পারে না। ইন্টারভিউয়ের সময় এখন প্রার্থীর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

রিপোর্টটি প্রমাণ করে যে, এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ার চেয়ে বরং ইমেল, স্প্রেডশিট বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মতো কর্মক্ষেত্রের আরেকটি প্রয়োজনীয় 'টুল' বা হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এআই আসার অপেক্ষায় বসে না থেকে, দেশের পেশাদাররা ইতিমধ্যেই নিজেদের এই প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন।