আজকাল ওয়েবডেস্কঃ উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে আর 'এনার্জি ড্রিঙ্ক' হিসেবে প্রচার করা যাবে না। করা যাবে না বিক্রিও। ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (এফএসএসএআই) আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে সম্প্রতি এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত নামী সংস্থাগুলির আবেদন অগ্রাহ্য করেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, পেপসিকো, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জির মতো নামী সংস্থাগুলিকে তাদের পণ্যদ্রব্য থেকে 'এনার্জি ড্রিঙ্ক' বা সমতুল শব্দবন্ধ অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। সমস্ত বোতল বা ক্যান থেকে এই শব্দের প্রয়োগ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সংস্থাগুলিকে এই নির্দেশ মেনে চলার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এফএসএসএআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমস্ত পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা এই পরিবর্তন মেনে নিতে সম্মত হয়েছে বলেও খবর। ওই বৈঠকে এফএসএসএআই-এর সিইও রজিত পুনহানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে বিক্রি কমবে—সংস্থাগুলির এই যুক্তি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অপছন্দ হলে সংস্থাগুলি আদালতে যেতে পারে বলেও তিনি জানিয়ে দেন।

চলতি মাসের শুরুতেই এফএসএসএআই স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষার আইনে 'এনার্জি ড্রিঙ্ক' নামে কোনও আলাদা বিভাগ বা মানদণ্ড স্বীকৃত নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, 'শরীর ও মন চাঙ্গা করে' বা 'শারীরিক দুর্বলতা কমায়'—এই ধরনের প্রচার একেবারে বিভ্রান্তিকর। পাশাপাশি, পানীয়গুলিতে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন, চিনি এবং টরিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

ভারতে ২০১৭ সালে পেপসিকো 'স্টিং' বাজারে আনার পরেই এ ধরনের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের বাজার হু হু করে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, শহর বা গ্রামের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ২০ টাকার বোতলের চাহিদা ব্যাপক। স্বভাবতই, সংস্থাগুলির আশঙ্কা 'এনার্জি ড্রিঙ্ক' পরিচয় বদল ঘটলে তাদের ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা কমতে পারে। ফলে ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে। ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন এফএসএসএআই-কে লেখা এক গোপন চিঠিতে জানানো হয়েছে, হঠাৎ এমন নির্দেশ জারি করলে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট হবে।

তবে ইতিমধ্যেই রাজস্থানের রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন—আমাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিঙ্কইট এবং সুইগি ইনস্টামার্টকে কোনও পণ্যকে 'এনার্জি ড্রিঙ্ক'-এর তকমা দিয়ে বিক্রির বা বিজ্ঞাপনের নির্দেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুল জব্দ করা হয়েছে।

শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে এই পানীয়গুলির উপর চলছে কড়া নজরদারি। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চ-ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলেও এগুলিকে কেবল 'স্টিমুল্যান্ট ড্রিঙ্ক' হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।