আজকাল ওয়েবডেস্ক:  অপরাধ করে পুলিশের জালে ধরা পড়লে সাধারণত অপরাধীদের মুখ শুকিয়ে আমসি হয়ে যায়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরে দেখা গেল এক্কেবারে উল্টো পুরাণ! সেখানে দুই চেইন-স্ন্যাচিংয়ের আসামির কাণ্ডকারখানা দেখে নেটপাড়ার চোখ চড়কগাছ। আইনের হাত থেকে বাঁচতে নয়, বরং ক্যামেরার সামনে এসে যেন তাদের ‘হিরোগিরি’ আরও বেড়ে গেল।

থানায় হাজির একঝাঁক সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা। সামনে খোদ পুলিশ সুপার (SP) সহ তাবড় তাবড় পুলিশ কর্তারা। আর ঠিক তখনই, সবার চোখের সামনে পুলিশি হেফাজতেই দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে, খাসি মার্কার হাসি হেসে নিজের গোঁফে তা দিতে শুরু করল এক অভিযুক্ত! সঙ্গীটিও কম যায় না, তার চোখে-মুখেও ভয়ের লেশমাত্র নেই, যেন কোনও  সিনেমার সাকসেস পার্টির শুটিং চলছে। ধৃত এই দুই বীরপুঙ্গবের বিরুদ্ধে এলাকায় চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে মিডিয়ার সামনে হাজির করতেই শুরু হয় এই ‘গোঁফ-বিলাস’। ক্যামেরার সামনে কোনো অপরাধবোধ তো দূর অস্ত, বরং চরম ঔদ্ধত্যের সাথে গোঁফে তা দেওয়ার দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে।

এদের কাছ থেকে শুধু চোরাই মালই নয়, উদ্ধার হয়েছে অবৈধ গাঁজাও! রবিবার খোদ এসপি (SP) সন্দীপ কুমার মীনা রিজার্ভ পুলিশ লাইন্সে এই বড়সড় সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন এবং সফল পুলিশ টিমকে ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানান।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে সিনেমাকেও হার মানানো সব তথ্য। ধৃতদের নাম কামিল ওরফে আলী এবং আহমেদ ওরফে নাটে—দুজনই গোরক্ষপুরের বাসিন্দা। জেরায় তারা স্বীকার করেছে যে তারা চরম মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা বাইকে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও চুরি করত। তবে এদের চুরির স্টাইলটাও ছিল বেশ অভিনব। গোরক্ষপুর শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা বেশি থাকায় তারা টার্গেট করত গ্রামের দিকটা। আর চুরির সময় যাতে কেউ চিনে না ফেলে, তাই মাথায় থাকত টুপি, আর কেউ যদি বাধা দিতে আসে—তার চোখে স্প্রে করার জন্য পকেটে থাকত লঙ্কার গুঁড়ো! গত ২৩ মে এই জুটি মেহদাওয়ালের অছিয়া গ্রামে এক মহিলার কাছে জল খাওয়ার বাহানা করে দাঁড়ায় এবং সুযোগ বুঝে গলা থেকে সোনার চেইন ছিনতাই করে চম্পট দেয়। পরে সেই চেইন ২৫ হাজার টাকায় বিক্রিও করে দেয় তারা।

তবে সবথেকে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য স্বীকার করেছে ধৃত আহমেদ ওরফে নাটে। সে জানিয়েছে, কেবল চুরি-ছিনতাই-ই নয়, ২০২০ সালে নেশার ঘোরে বচসা হওয়ায় নিজের এক বন্ধুকে পাথর এবং ব্লেড দিয়ে খুনও করেছিল সে! অর্থাৎ, ক্যামেরার সামনে যে গোঁফে তা দেওয়া চলছিল, তার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক কুখ্যাত অপরাধীর ইতিহাস। অবশ্য এই ‘গোঁফ-বিলাসের’ মেয়াদ বেশিদিন টেকেনি; পুলিশি আইনের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এই দুই অতি-চালাক চোরকে আপাতত গরাদ খাটতে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।