আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত সরকার বুধবার (৭ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণনা ২০২৭ শুরুর ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার দপ্তর থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগণনার প্রথম ধাপের ব্যাপারে জানানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তি গেজেট অব ইন্ডিয়া (এক্সট্রাঅর্ডিনারি)-তে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনগণনার প্রথম ধাপটি হবে হাউস লিস্টিং ও হাউজিং সেনসাস (HLO), যা দেশজুড়ে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। এই পর্যায়ে মূলত দেশের আবাসন কাঠামো, পরিবারের সম্পদ, বাসস্থানের ধরন এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে এই ধাপে কোনও ব্যক্তিগত তথ্য বা জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিবরণ নথিভুক্ত করা হবে না।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছয় মাসের পুরো সময়জুড়ে একটানা এই সমীক্ষা চলবে না। বরং প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজ নিজ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যে হাউস লিস্টিংয়ের কাজ সম্পন্ন করবে। অর্থাৎ, কোন রাজ্যে বা অঞ্চলে কবে থেকে এই কাজ শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারই ঠিক করবে।

এবারের জনগণনায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। হাউজ  লিস্টিং শুরু হওয়ার আগে প্রতিটি এলাকায় ১৫ দিনের জন্য নিজে থেকে বা স্ব-গণনা (self-enumeration)-র সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পরিবারগুলি অনলাইনে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে পারবে। পরে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। Census India 2027-এর সরকারি এক্স হ্যান্ডলেও এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনগণনার দ্বিতীয় ধাপ, অর্থাৎ Population Enumeration (PE), নির্ধারিত হয়েছে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই পর্যায়ে দেশের প্রতিটি ব্যক্তির জনসংখ্যাগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে আবহাওয়ার কারণে লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের যেখানে বরফ পড়ে সেই  এলাকাগুলিতে জনসংখ্যা গণনা আগেই, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ  করা হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পুরো জনগণনা প্রক্রিয়ার জন্য ১১,৭১৮ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়।

সরকার আরও জানিয়েছে, Census 2027-এর রেফারেন্স ডেট ধরা হবে ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যরাত। ওই সময়ের ভিত্তিতেই দেশের জনসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।