আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়া সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিচারপতি ডঃ স্বর্না কান্ত শর্মার সরে দাঁড়ানোর যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তার তীব্র বিরোধিতা করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা একটি হলফনামায় সিবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনও বিচারপতির আইনি সেমিনারে যোগদানকে তাঁর 'মতাদর্শগত যোগসূত্র' হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এই যুক্তিতে সিবিআই ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিচারপতির অখিল ভারতীয় আইনজীবী পরিষদের চারটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিস্তারিত তথ্যও আদালতে পেশ করেছে।

তদন্তকারী সংস্থাটি তাদের পাল্টা হলফনামার ২ নম্বর অ্যানেক্সচারে জানিয়েছে, ২০২২ সালের ২৬শে ডিসেম্বর কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আইনজীবী পরিষদের ১৬তম জাতীয় সম্মেলনে বিচারপতি শর্মা ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত। এছাড়া ২০২৩ সালের ১৭ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘শক্তি পর্ব’ অনুষ্ঠানে বিচারপতি পঙ্কজ মিত্থলের সঙ্গে তিনি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সংক্রান্ত একটি স্টাডি সার্কেল এবং ২০২৫ সালের ৮ই আগস্ট নারী আইনজীবীদের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই প্রতিটি অনুষ্ঠানই ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং আইনি জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র। আইনজীবী পরিষদকে আরএসএস-এর শাখা সংগঠন হিসেবে দাবি করে অভিযুক্তরা যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আদালতের মর্যাদাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে সিবিআই।

বিচারপতির নিরপেক্ষতা প্রমাণের স্বপক্ষে সিবিআই যুক্তি দিয়েছে যে, এই একই বিচারপতি এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অরুণ রামচন্দ্রন পিল্লাইকে তিনবার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার মতে, কোনও বিচারপতি যদি একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে পক্ষ ও বিপক্ষ— উভয় ধরনের নির্দেশ দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতের প্রশ্ন উঠতে পারে না। কেজরিওয়ালরা দ্রুত শুনানির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অভিযোগ তুললেও, সিবিআই পাল্টায় সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশিকার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যেখানে সাংসদ ও বিধায়কদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে লালু প্রসাদ যাদবের একটি পুরনো মামলার উদাহরণ টেনে সিবিআই জানায়, সেখানেও তিন মাসের কম সময়ে ২৭টি শুনানি হয়েছিল। সিবিআই-এর সাফ কথা, আইনি সেমিনারে যাওয়া কোনও অপরাধ নয় এবং এটি বিচারপতির বিচার বিভাগীয় কাজে প্রভাব ফেলতে পারে না। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ব্যক্তিগতভাবে এই আবেদন নিয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই আদালতকে জানিয়েছিলেন, তবে সিবিআই-এর এই কড়া অবস্থান মামলাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে।