আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়া ধুঁকছে যুদ্ধে। সেই জেরে কমছে ভারতে গ্যাসের যোগান। এদিকে জনবহুল দেশ হওয়ার জন্য গ্যাসের চাহিদাও বেশি। এলএনজি বা লিকুইফায়েড ন্যাচরাল গ্যাস (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে ভারত চতুর্থতম। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে ভারতে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরানের সংঘর্ষে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এই পথে বিশ্বের সিংহভাগ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে যখন এই পথ সংঘর্ষের জেরে বন্ধ হল, তখন জ্বলানি আমদানি প্রশ্নের মুখে পড়ল। ভারতের প্রায় ৫০-৬০% জ্বলানি আসত এই পথেই। এখন সে পথ বন্ধ। কিন্তু দেশের মানুষের মুখে গ্রাস তো তুল দিতে হবে। তাহলে উপায়?

পশ্চিম এশিয়াকে ছেড়ে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ক্যানাডা আমেরিকার মতো বিভিন্ন দেশের থেকে এখন জ্বলানি কিনছে নয়াদিল্লি। ভারতের জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে অন্য দেশের উপরে নির্ভরশীল নয়। নিজের ঘরেও কিছু জ্বালানি উৎপাদন হয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস এবং ওএনজিসি মূলত এই গ্যাস উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে। ২০২৭-এর মধ্যে এই উৎপাদন আরও বাড়াতে চাইছে তারা। 

২০২৩ সালে ভারতে মোট ৩৬.৪ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩,৬৪০ কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদন হয়েছে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক। আর বাকি অংশ আমদানি করা হয়েছে বাইরে থেকে। ভারতের নিজস্ব গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস কৃষ্ণ-গোদাবরী বেসিন এলাকা। এখানে মোটা তিনটে বড় এলাকা রয়েছে। আর ক্লাস্টার, স্যাটেলাইট ক্লাস্টার আর এমজে। এই জায়াগাগুলি মিলিয়ে দেশের মোট প্রয়োজনের প্রায় ২৫% গ্যাস উৎপাদন করে। 

গ্যাস উৎপাদনে পিছিয়ে নেই উত্তর পূর্ব ভারত। আসাম ও ত্রিপুরা দেশের স্থলভাগ থেকে উৎপাদনের প্রায় ৮৭% দেয়। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ১৩%। এত কিছুর পরে দেশের সার্বিক চাহিদা যোগানের তুলনায় অধিক। তাই দেশকে অন্য দেশের জ্বালানির উপরে নির্ভরশীল হতে হয় অনেকখানি। গ্যা, আমদানি করে সেই ঘাটতি পুরণ করতে হয়। এলএনজি বা প্রাকৃতিক এই গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করা হয়। এর ফলে গ্যাসের আয়তন প্রথমে যা থাকে তার ৬ ভাগের এক ভাগ হয়ে রয়ে যায়। গ্যাসের পরিমাণ কমে না, আয়তন কমে। ফলে, সহজে জাহাজে করে বহন করা যায়। তারপর বন্দরে এনে আবার গরম করে নিলে ফুলে ফেঁপে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা যায়। তারপর নলের বা পাইপের মাধ্যমে জনগণের কাজে সরবরাহ কর হয়ে থাকে। 

ভারতে এই গ্যাস মূলত ব্যবহার করা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, নানান কারখানায়, বহু ধরণের শিল্পে, পিএনজি আকারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে এবং সিএনজি চালিত গাড়িতেও। অর্থাৎ এই গ্যাস আমাদের রোজনামচায় মিলেমিশে রয়েছে। যে কোম্পানিগুলি এই গ্যাস দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে সরবরাহ করে থাকে, সেই কোম্পানিগুলি আশ্বস্ত করেছে এখনও প্রায় ৩০ দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে গৃহস্থে আগে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, কারখানা বা অন্যান্য কাজের তুলনায়। 

কিন্তু যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, এপ্রিলের পরেও যদি এই প্রণালী না উন্মুক্ত হয়, তাহলে এই পিএনজি বা গৃহস্তের গ্যাসের দাম বাড়তে পারে ২০-৩০% পর্যন্ত। অর্থাৎ অন্যান্য দেশের থেকে জ্বলানি আনালেও এই প্রণালীর উপরে দেশের জ্বালানির অনেকাংশই এখনও নির্ভরশীল। তবে এক্ষুনি গ্যাসের যোগান বন্ধ হচ্ছে না বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। তবে দাম বাড়ার আশঙ্কাকে বিশেষজ্ঞরা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছেন না।