আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেবল পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বরং পড়াশোনা শেষে যাতে সরাসরি কাজের সুযোগ তৈরি হয় - ২০২৬-এর বাজেটে সে দিকেই নজর দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
দেশের বড় বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর পাশেই তৈরি হবে পাঁচটি ‘ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ’ বা 'বিশ্ববিদ্যালয় শহর'। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে পড়ুয়াদের যোগাযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের আরও উৎসাহিত করতে দেশের প্রতিটি জেলায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য আলাদা হোস্টেল তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। পর্যটন ও আতিথেয়তা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়াতে তৈরি হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি’।
ভবিষ্যতের প্রযুক্তির কথা মাথায় রেখে সরকার এবার বড় পদক্ষেপ করছে। প্রায় ১৫,০০০ স্কুলে এবং ৫০০ কলেজে অ্যানিমেশন, গেমিং ও কমিক্স তৈরির ল্যাব গড়া হবে। এমনকী স্কুলের পাঠ্যক্রমেই যাতে কৃত্রিম মেধা বা এআই অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন সীতারামন। তাঁর লক্ষ্য, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব বাজারে পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের অংশীদারি ১০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।
চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মানোন্নয়নে ১০টি ক্ষেত্রে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়া হবে। এছাড়া আয়ুর্বেদ চিকিৎসার প্রসারে তিনটি নতুন ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট’ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ব ভারতের জন্য সুখবর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ দিকে একটি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন (NID) তৈরি হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের ঠিক আগে রবিবাসরীয় ভারতের শেয়ার বাজারে দেখা গেল এক মিশ্র ছবি। সাধারণত রবিবার বাজার বন্ধ থাকে। তবুও আজ বিশেষ লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা নামলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। লগ্নিকারীদের মধ্যে এক ধরণের সাবধানী ও থমথমে ভাব স্পষ্ট।
বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স সকালে ১০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি কিছুটা নিম্নমুখী ছিল।
এদিন সেনসেক্সের শেয়ারগুলোর মধ্যে সান ফার্মা, ভারত ইলেকট্রনিক্স ও এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক লাভের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, ইনফোসিস ও টাটা স্টিলের মতো বড় সংস্থাগুলির শেয়ার দর কিছুটা কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার আগে বাজারে এই অস্থিরতা স্বাভাবিক, যে কোনও দিকে বড় সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ টানা নবমবারের মতো বাজেট পেশ করছেন। সেই কারণেই আজ শেয়ার বাজার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও বিদেশি মুদ্রা ও ঋণপত্রের বাজার বন্ধ আছে। গত এক বছরে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের বাজার খুব একটা ভালো ফল করেনি। নিফটি বেড়েছে মাত্র ৭.৮ শতাংশ। বিদেশি লগ্নিকারীদের টাকা তুলে নেওয়া এবং সংস্থাগুলোর মুনাফা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
বাজেটে আমদানি শুল্ক কমানোর জল্পনায় ঝপঝপিয়ে দাম কমেছে সোনা ও রুপোর। রাতারাতি বিশ্ব বাজারে বড় পতনের জেরে আজ ঘরোয়া বাজারেও সোনা ও রুপোর দাম প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পেশ হওয়া আর্থিক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি ৭.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আগামী বছর এই হার কিছুটা কমে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
