আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকমাসের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট সময় পিরিয়ডে দেশের একাধিক জায়গায় সেতু বিপর্যয় ঘটেছে। তার সাম্প্রতিকতম নির্দশন গুজরাট। ৯ জুলাই, ভরা বর্ষায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে মোদির রাজ্যের সেতু। তাতে প্রাণ গিয়েছে অন্তত দশ জনের।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। ওইদিন অফিস টাইমে সেতু দিয়ে বহু গাড়ি, ট্রাক চলাচল করছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, গম্ভীরা-মুজপুর সেতুটি মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ছে। মাহিসাগর নদীতে তলিয়ে যায় কমপক্ষে চারটি গাড়ি। দু'টি ট্রাক, একটি পিক আপ ভ্যান এবং একটি গাড়ি সেতু থেকে সোজা নদীতে পড়ে যায়। ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়, আলোচনা হয় দেশ জুড়েও।
আরও পড়ুন: ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে চান? এই চারটি নথি থাকলেই যথেষ্ট, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা...
আলোচনা শুরু হয়, দেশের বহু জায়গায় এখনও রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন সেতু। বেশকিছু সেতুর বিয়স যেমন অনেক এখনও সেখান দিয়ে দিনভর বহু গাড়ি যাতায়াত করে। জলবায়ু পরিবর্তন, নগর বৃদ্ধি নানাভাবে প্রভাব ফেলছে পরিবহনের উপর। এক কথায় ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। কী হবে, সেগুলি যদি আচমকা ভেঙে পড়ে? কেবল দেশ নয়, বিদেশেও বারে বারে সেতু বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গের ফার্ন হলো ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। সেতু বিপর্যয়ের ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশকয়েকজন। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, এই ধসের মূল কারণ ইস্পাত উপাদানের ভাঙন, ক্ষয়। একই সঙ্গে কারণ হিসেবে উঠে আসে দুর্বল
রক্ষণাবেক্ষণ এবং বারবার পরিদর্শনের সুপারিশ মেনে না চলা। রিপোর্টে বলা হয় বিশ্বজুড়ে এইসব স্থাপত্য, সেতুতে অপর্যাপ্ত পরিদর্শন এবং তদারকির কারণে এই সমস্যাগুলি আরও বেড়ে যায়।
তিন বছর আগে, তাইওয়ানের নানফাং'আও ব্রিজটিও ভেঙে পড়ে। স্যাঁতসেঁতে, লবণাক্ত সমুদ্রের বাতাসের সংস্পর্শে এই সেতুতে ক্ষতি হয়। ওই বিপর্যয়ে ছ’ জন মারা যান।

২০১৮ সালের আগস্টে, ইতালির মোরান্ডি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ওই সেতু বিপর্যয়ে ৪৩ জন নিহত হয়। প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট এবং স্টিলের টেন্ডনে ক্ষয়ের কারণে এই ধস ঘটে বলে
২০০৭ সালের আগস্টে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরে একটি সেতু ভেঙে পড়ে, ১৩ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়। এই ধস মূলত সেতুর নকশায় পূর্বে অলক্ষিত সমস্যার কারণে ঘটেছিল।
তাহলে পরিত্রাণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ হল অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়ন প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর। এটি প্রায় বাস্তব-সময়ের তথ্য প্রদান করতে পারে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তাঁদের মতে, কাঠামোগত স্বাস্থ্য-পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হতে পারে।
ডিজিটাল টুইন-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য এগুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল এবং সেতু তথ্য মডেলিংয়ের সাথে একীভূত করা যেতে পারে। কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার খরচ সেতুর আকার এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের পরিমাণ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। তবে বড় বিপদ এড়ানোর জন্য ওই খরচ করা প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। কিছু সহজ সিস্টেমের দাম মাত্র কয়েক হাজার ডলার, কিছু ক্ষেত্রে দাম আরও বেশকিছুটা বেশি।
