আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের সানাইয়ের রেশ তখনও কাটেনি, নতুন জীবন শুরুর স্বপ্নে বিভোর ছিল আগ্রার জগদীশপুরা এলাকার এক যুবক। কিন্তু বাসর রাতেই সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল এক অদ্ভুত এবং ভয়ানক দাবিতে। কনের দাবি—নব্বই লক্ষ টাকা নগদ দিতে হবে, নয়তো স্বামীর সঙ্গে কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াবেন না তিনি। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এখন শুধু পুলিশের নথিতে নয়, গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ এপ্রিল ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল গৌরব ও কল্পনার। কনে হাথরসের বাসিন্দা আর বর আগ্রার এক নামী চিকিৎসকের ভাই। বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান শেষে কনেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর বাসর রাতেই শুরু হয় চরম অশান্তি। গৌরবের পরিবারের দাবি, ঘরে ঢোকা মাত্রই কল্পনা সাফ জানিয়ে দেন, তার বাবার বাড়িতে নব্বই লক্ষ টাকা পাঠাতে হবে, তবেই তিনি দাম্পত্য সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বরের পরিবার তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও কল্পনা নিজের জেদে অনড় থাকেন। উল্টে তিনি তার বাপের বাড়িতে খবর দেন এবং অভিযোগ উঠেছে, তার আত্মীয়রা এসে ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, কনের পরিবারের বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কল্পনার আত্মীয়রা বাড়ির একটি পিএনজি (গ্যাস) পাইপলাইন ভেঙে ফেলে বাড়ির সদস্যদের ভেতরে আটকে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। বরাতজোরে প্রতিবেশীদের সাহায্যে রক্ষা পায় গৌরবের পরিবার। এখানেই শেষ নয়, কল্পনা নাকি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সামনে স্বীকার করেছেন যে, এই বিয়েতে তার কোনও  আগ্রহ ছিল না কেবল টাকার নেশায় তিনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনি নিজের এবং শাশুড়ির সমস্ত গয়না নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান এবং হুমকি দেন যে নব্বই লক্ষ টাকা না দিলে পুরো পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

ঘটনাটি প্রায় এক বছর আগের হলেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে এতদিন কোনও  সুরাহা হয়নি। শেষমেশ ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি জগদীশপুরা থানায় কল্পনা, তার বাবা এবং ভাইদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চুরি ও খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ এখন সেই ঘটকালি করা ব্যক্তির সন্ধান করছে যে এই সম্বন্ধ নিয়ে এসেছিল। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই পুরো বিষয়টির পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত বড় কোনও  চক্র কাজ করছে কি না। বাসর রাতে নববধূর এমন 'দর কষাকষি' এবং পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলার এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।