আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাজুরাহোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বর্তমানে চিকিৎসা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ৬০ বছর বয়সী এক কৃষকের মলদ্বার থেকে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে প্রায় ১৬ ইঞ্চির একটি আস্ত লাউ। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। অসহ্য পেটের যন্ত্রণা এবং গুরুতর শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। চিকিৎসকরা এক্স-রে করার পর রীতিমতো চমকে ওঠেন; দেখা যায় তাঁর পেটের ভেতরে একটি বিশালাকার লাউ আটকে রয়েছে। যদিও ওই বস্তু রোগীর শরীরে ঠিক কীভাবে প্রবেশ করল, তা নিয়ে এখনও রহস্য দানা বেঁধে রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, মলদ্বারে বাহ্যিক বস্তু আটকে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কিছু নয়। ষোড়শ শতক থেকেই এই ধরণের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। হায়দ্রাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সুধীর কুমারের মতে, যৌন ক্রিড়ায় দুর্ঘটনা, যৌন হেনস্থা, মাদক পাচারের চেষ্টা কিংবা মানসিক অসুস্থতার কারণে এই ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা 'আইজেএসআর' (IJSR)-এর ২০২২ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স বেশ উদ্বেগজনক।
বেঙ্গালুরুর অস্টার সিএমআই হাসপাতালের সার্জন ডাঃ মহেশ চিক্কচান্নাপ্পা জানান যে, মলদ্বারে বড় আকারের প্লাস্টিক, কাঁচ বা ধাতব বোতল, কিংবা বেগুন ও গাজরের মতো সবজি আটকে থাকলে তা মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে মলদ্বারের ভেতরে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাত শুরু হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে 'পেরিটোনাইটিস' বা 'সেপসিস'-এর মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এর পরিসংখ্যান বলছে, এমন পরিস্থিতির প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ হলো, এই ধরণের কোনও দুর্ঘটনায় পড়লে লজ্জায় বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত। নিজে থেকে সেই বস্তু বের করার চেষ্টা করলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ না থাকলে চিকিৎসকরা সাধারণ পথেই বস্তু বের করতে পারেন, কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ল্যাপারোটমির মতো বড় অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সামান্য লজ্জা বা অবহেলাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
















