বিহারের কোচি গ্রামের এক অদ্ভুত ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। যা দেখেশুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মানুষ বেঁচে থাকতে কত কিছুই না করে, কিন্তু নিজের চোখে নিজের শ্মশানযাত্রা দেখার শখ ক'জনের হয়? বিহারের গয়া জেলার বাসিন্দা মোহন লাল নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি এই অদ্ভুত ঘটনাই ঘটিয়েছেন।
৭৪ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধ নিজের মৃত্যুর পর মানুষ তাঁকে কে কতটা ভালবাসে এবং কে কেমন শ্রদ্ধা জানায়, তা পরীক্ষা করার জন্য একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা করে এক নাটকীয় শ্মশানযাত্রার আয়োজন করেছিলেন। সবকিছুই একেবারে নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছিল। পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা ভেবেছিলেন তিনি সত্যিই মারা গিয়েছেন। সাদা কাপড়ে দেহ মুড়ে বাঁশের মাচায় শুইয়ে যখন তাঁকে শ্মশানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল 'রাম নাম' ধ্বনি। গ্রামবাসীদের অনেকেই সেই মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন।
কিন্তু আসল টুইস্ট এল শ্মশানে পৌঁছানোর পর। চিতায় তোলার ঠিক আগের মুহূর্তে ওই বৃদ্ধ হঠাৎ করে শ্মশানের খাটিয়া থেকে সটান উঠে বসে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত লোকজনের তো প্রায় হার্টফেল হওয়ার জোগাড়! সবাই তো থমকে গিয়ে ভূত দেখার মতো দাঁড়িয়ে রইলেন।
পরে মোহন লাল জানান, তিনি জীবিত অবস্থাতেই দেখতে চেয়েছিলেম মানুষ তাঁকে ঠিক কতটা ভালবাসে এবং মারা যাওয়ার পর কার কেমন প্রতিক্রিয়া হয়। তবে এর পিছনে অন্য একটি সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যও ছিল। তিনি নিজের উদ্যোগে গ্রামে একটি নতুন শ্মশানঘাট তৈরি করেছিলেন। সেই নতুন শ্মশানের উদ্বোধন মানুষের মনে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন। এই ঘটনাটা যদিও বেশ কয়েক মাস আগের। তবুও বর্তমান তা আবার ছড়িয়ে পড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
















