আজকাল ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার 'রাজর্ষি দশরথ অটোনমাস স্টেট মেডিকেল কলেজ'-এ বোমা তৈরির নথি উদ্ধার হযেছে। এই ঘটনায় প্রথম বর্ষের এক মেডিকেল ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শনিবার মেডিকেল কলেজের এক্স-রে রুম থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নথিটি উদ্ধার করেন।

বিষয়টি জানাজানির পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি 'লালাকেল্লা বিস্ফোরণ মামলা'র (নভেম্বর ২০২৫) স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওই মামলায় মূল অভিযুক্তরা ফরিদাবাদের 'আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি'র কর্মী ছিলেন।

পুলিশ এ পর্যন্ত কী তথ্য পেয়েছে?
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, নথিটি সম্ভবত সরফরাজ নামের এক প্রথম বর্ষের ছাত্র তৈরি করেছিল। সরফরাজ শুক্রবার রাতে এক্স-রে রুমে দায়িত্বে ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরের বাসিন্দা সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সরফরাজের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আরও দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হাতে লেখা ওই নথিতে বিস্ফোরক তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এতে গজ তার, অ্যামোনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, রেড সালফাইড, নাইট্রিক অ্যাসিড ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে। 'রাজর্ষি দশরথ অটোনমাস স্টেট মেডিকেল কলেজ'-এর চিফ মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট (সিএমএস) ডা. অরবিন্দ সিং জানিয়েছেন, নথিটি পাওয়ার পরপরই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। সিং বলেন, "তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।"

উদ্ধার হওয়া নথিটির সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না এখনও তা পুলিশ নিশ্চিৎ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ নজরদারি জোরদার করেছে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।

গত বছর ফরিদাবাদের 'আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি'র কর্মীদের মধ্যে 'জইশ-এ-মহম্মদ'-এর একটি সন্ত্রাসবাদী মডিউল বা চক্র ধরা পড়ার কয়েক মাস পরেই এই ঘটনাটি সামনে এল। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালাকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও অনেকে আহত হওয়ার পর ওই সন্ত্রাসবাদী চক্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল।