আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতাকে কেবল নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকার হিসেবে দেখা উচিত নয়। জেন-জি বিক্ষোভ আবহে বললেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। শনিবার জোর দিয়ে দোভাল বলেন যে, তরুণ প্রজন্মের উচিত ভারতের বিষয়ে লোকমান্য তিলকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতি গঠনে তাঁর অবদানের কথা গভীরভাবে অনুধাবন করা।
পুনেতে লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় অজিত দোভাল বর্তমান প্রজন্মের স্বাধীনতা ভোগের সঙ্গে লোকমান্য তিলকের জীবন ও কর্মকালের কঠিন পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি বলেন, সেই যুগের সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা আজকের তরুণদের পক্ষে পুরোপুরি কল্পনা করা কঠিন। দোভাল বলেন, "লোকমান্য তিলকের জীবন ও তাঁর চরিত্রের গভীরতা সত্যিকার অর্থে বোঝার জন্য সেই যুগের প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা এবং তৎকালীন শোচনীয় পরিস্থিতি অনুধাবন করা প্রয়োজন, এমন সব বাস্তবতা যা হয়তো আমরা, এবং বিশেষ করে তরুণরা, পুরোপুরি কল্পনা করতে হিমশিম খাই।"
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে লোকমান্য তিলকের বাণী, ভারতের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর মধ্যে থাকা দেশ গঠনের চেতনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানান। দোভাল বলেন, "প্রত্যেক ভারতীয়র, বিশেষ করে আমাদের তরুণদের, তাঁর বাণী নিয়ে ভাবা উচিত; ভারতের জন্য তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এবং জাতি গঠনের যে চেতনা তিনি ধারণ করতেন, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।"
দোভাল উল্লেখ করেন যে, তরুণ প্রজন্ম হয়তো কখনও কখনও আজ তারা যে স্বাধীনতা ভোগ করছে, তার প্রকৃত অর্থ ভুল বুঝতে পারে। তিনি বলেন, "আজকের তরুণরা হয়তো মনে করতে পারে যে ভারত সবসময়ই এমন ছিল, অথবা তারা স্বাধীনতাকে কেবল 'যা খুশি তা করার অধিকার' বলে ভুল করতে পারে। কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তা নয়।"
সদ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। যা নিয়ে প্রবল বিতর্কও হয়েছে। এই অবস্থায় পুনেতে তরুণগদের প্রতি দোভালের সতর্কবার্তা বেশ তাৎপর্যবাহী।
জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম (যেমন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস) এবং প্রশাসনিক কাঠামোগত চাপের কারণে তৈরি ক্ষোভ থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে 'জেন-জি'-দের বিক্ষোভ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। দাবি আদায়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সংসদ অভিমুখে মিছিল, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে সরাসরি স্লোগান তুলেছে, তখন রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নাগরিকদের এই অভিব্যক্তিকে জাতীয় কর্তব্যের কঠোরতর গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার চেষ্টা করেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যখন যুক্তি দেয় যে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার মধ্যে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত, তখন দোভালের মতো প্রবীণ নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, লাগামহীন অবাধ্যতার চেয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা, জাতি গঠন এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক।
জাতির প্রতি লোকমান্য তিলকের অবদানের কথা তুলে ধরে দোভাল বলেন, তিলকের জীবন ও সময়কাল ছিল ভয়, যন্ত্রণা ও কষ্টে পূর্ণ। তা সত্ত্বেও তিনি এক বিশাল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ভারতের জাতীয় চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভারতের তরুণদের প্রতি জাতি গঠনে নিজেদের পুরোপুরি নিয়োজিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ)। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এক "বিরল সুযোগের দ্বার" উন্মোচিত হয়েছে, যা কোনওভাবেই হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না।
দোভাল বলেন, "আজকের তরুণদের উচিত নিজেদের পুরোপুরি জাতির সেবায় উৎসর্গ করা। ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থকে দূরে সরিয়ে রেখে সর্বদা জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সংকল্প তাদের নেওয়া উচিত। এমনকি যদি এমন স্বার্থের প্রশ্ন সামনে আসেও, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত। সেসব বিষয় আপাতত অপেক্ষমান থাকতে পারে; মূল অগ্রাধিকার হল জাতি গঠন। আমাদের দেশের ইতিহাসে এক বিরল সুযোগ এসেছে এবং আমরা তা হাতছাড়া হতে দিতে পারি না। আমি নিশ্চিত যে আমরা এই মিশনে সফল হব এবং ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করব।"
শনিবার পুনেতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালকে মর্যাদাপূর্ণ 'লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার ২০২৬' প্রদান করেন। এ সময় তিনি লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের "নির্ভীক" জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং এনএসএ-র প্রতিষ্ঠিত আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে এক যোগসূত্র তুলে ধরেন।
















