আজকাল ওয়েবডেস্ক: কুয়োর অন্ধকারে আটকে পড়েছে একটি ছাগলছানা। তাকে উদ্ধার করতে কোনও দমকল বা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নয়, বরং গ্রামবাসীরা বেছে নিলেন একরত্তি এক শিশুকে! তার কোমরে কাপড় বেঁধে সোজা নামিয়ে দেওয়া হলো কুয়োর মধ্যে। বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার মোতিহারি এলাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধারকাজের ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। গ্রামের একটি শুকনো কুয়োয় ছাগলছানাটি পড়ে যাওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল এলাকায়। শেষমেশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এক শিশুকেই নামানো হয় নীচে। সে ছানাটিকে কোলে নিয়ে উপরে উঠে আসতেই হাততালিতে ফেটে পড়েন উপস্থিত জনতা। খুদের সাহসের প্রশংসা যেমন হচ্ছে, তেমনই অবলা প্রাণীর প্রাণ বাঁচাতে একটি শিশুর জীবন এভাবে বিপন্ন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, কুয়োর ভেতরে এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত মাসেই মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে খেতে কাজ করার সময় চিতার কবলে পড়েন গোরখ যাদব নামে এক কৃষক। চিতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে দু’জনেই কুয়োর ভেতরে পড়ে যান।
বনদপ্তর এসে পৌঁছনোর আগেই কৃষক ও চিতা- দু’জনেরই মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বনকর্মীরা। বিহারের ক্ষেত্রে বড় কোনও বিপদ না ঘটলেও, সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে শিশুকে এভাবে ব্যবহার করার ঘটনায় স্তম্ভিত সমাজমাধ্যমের একাংশ।
প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে এখন দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা চলছে। আর এই পরীক্ষা ঘিরেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে নানা খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কিছু ভিডিও নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সামান্য দেরি হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না পড়ুয়াদের। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই ব্যথিত৷
এর মধ্যেই ওড়িশা থেকে এক খবর পাওয়া গিয়েছে। খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু মেয়ের দশম শ্রেণির পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে কাটে, তার জন্য সেই 'কয়েদি' বাবাকেই সাময়িক মুক্তি দিল ওড়িশা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, শিক্ষা প্রত্যেকটি শিশুর মৌলিক অধিকার। আর কিছু বিশেষ সময়ে সন্তানের জন্য বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুমা আছেন। তাঁদের পক্ষে নাতনিকে প্রতিদিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল। মেয়ের নিরাপত্তা আর পরীক্ষার কথা ভেবেই ব্যক্তি জামিনের আবেদন করেছিলেন। ওড়িশা হাই কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে জানায়, আইন কঠোর হলেও এই 'বিশেষ' দিকটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
২০১০ সালের একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত শ্রীনিবাস পাত্র ২০২১ সাল থেকে জেল খাটছেন। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় বাবার অনুপস্থিতি মেয়েটির পড়াশোনা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। দুই পক্ষের কথা শোনার পর আদালত এই পারিবারিক সংকটকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ছুটি শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়টুকু। ১০ মার্চ পর্যন্ত জামিনে থাকতে পারবেন শ্রীনিবাস। তার পরেই তাঁকে ফের আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। জগৎসিংপুর জেলা ও দায়রা আদালতকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সাময়িক মুক্তির সঙ্গে তাঁর আসল সাজার কোনও সম্পর্ক নেই।
আইনের কঠোর শাসন বজায় রেখেও আদালত যেভাবে এক ছাত্রীর পড়াশোনা আর আবেগকে গুরুত্ব দিল, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই।
