আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মদ কেলেঙ্কারিতে আর্থিক দুর্নীতিতে ছেলেকে তাঁর জন্মদিনেই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল ইডি। শুক্রবারের ঘটনায় উত্তাল দুর্গ জেলার ভিলাই শহর। জোর চর্চা ছত্তিশগড়ের রাজনীতির অলিন্দে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের ছেলে চৈতন্য বাঘেলকে গ্রেপ্তার করেছে তাঁদের বাড়ি থেকে। তার আগেই ভিলাইয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। চৈতন্যের গ্রেপ্তারির পর, শুক্রবার শহর জুড়ে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা বিক্ষভ দেখাতে শুরু করেন।

এর আগে চৈতন্য বাঘেলকে ইডি আর্থিক প্রতারণা মামলার অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। দাবি ছিল, এতে রাজ্য সরকারের ২,১৬০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক করমন্ত্রী কাওয়াসি লক্ষ্মীকে জানুয়ারিতে এই মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। ওই একই মামলায় এবার গ্রেপ্তার ভূপেশ-পুত্র।

আরও পড়ুন: এসবিআই মানেই সুখের চাবিকাঠি, বিনিয়োগ করলেই তৈরি হবে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ

 

সর্বভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের এই মদ কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক দুর্নীতির একাধিক দিক রয়েছে।, অর্থাৎ নানা ভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল এই কেলেঙ্কারির জাল। তার মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ অঞ্চলে সরকার পরিচালিত মদের দোকানের মাধ্যমে স্থানীয় মদ বিক্রি। ইডির অভিযোগ, রাজ্য এসরকার পরিচালিত দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া ওই বিপুল পরিমাণ মদল্র কোনও অর্থই পায়নি।  রাজ্যের কোষাগারের বদলে বড় অঙ্কের তাকা ঘুরপথে গিয়েছে অন্যত্র। এছাড়া মদ প্রস্তুতকারক =দের থেকে ঘুষ নেওয়া-সহ একাধিক বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। 

 

অভিযোগ, এই সমস্ত মদ কেলেঙ্কারি, আর্থিক তছরুপের ঘটনা ঘটে কংগ্রেস জমানায়। এইসব ঘটনা ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ঘটেছিল বলে অভিযোগ।

ফেডারেল সংস্থা দুর্গ জেলার ভিলাইতে বাঘেল পরিবারের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর কিছুক্ষণ পরেই এটি ঘটে, মার্চ মাসেও এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল, যদিও তখন মহাদেব বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে সিনিয়র কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) অভিযান চালায়।

 

ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভূপেশ। ছেলের গ্রেপ্তারির আগেই, ইডির তল্লাশির সময়েই তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ভূপেশ বাঘেল এসবে ভয় পাচ্ছেন না। তাঁর লড়াই জারি থাকবে বলেও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভূপেশ বিহারের প্রসঙ্গও টেনেছিলেন। লিখেছিলেন, 'এক দিকে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিহারের ভোটারদের সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অন্য দিকে বিরোধীদের দমিয়ে দিতে ইডি, আইটি, সিবিআইয়ের মতো সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।'। ছেলের গ্রেপ্তারির পরেও পোস্ট করেন ভূপেশ। জানান, শুক্রবার ছত্তিশগড় রাজ্য বিধানসভার বাদল অধিবেশনের শেষ দিন। এদিন সেখানে আদানিদের প্রকল্পের জন্য গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেওসবের পথে না গিয়ে তাঁর বাড়িতে ইডি পাঠানো হয়েছে। 

 

শুক্রবার ভূপেশ পুত্রর জন্মদিন। গ্রেপ্তারির আগেই এই প্রসঙ্গ টেনে ভূপেশ বলেছিলেন, 'আমার ছেলে চৈতন্যের জন্মদিনে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দল আমার বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। এই উপহারগুলির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি এগুলি সারাজীবন মনে রাখব।' তবে এই প্রথম নয়, ভূপেশ বাঘেলের দল-সহ দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল বারেবারে অভিযোগ করেছে, বিজেপি ইডি-সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলিকে বিরোধী নেতাদের হয়রানি করার জন্য ব্যব্বহার করছে ক্রমাগত।