আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'তুমি মরলেই মেয়ে শান্তিতে বাঁচবে'। এভাবেই পুলিশকর্মীকে কথা শোনাতেন শ্বশুর। বারবর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিতেন। শ্বশুরের অপমান আর সহ্য করতে না পেরে চরম পদক্ষেপ নিলেন ৩৪ বছর বয়সি এক পুলিশকর্মী। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন তিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে। বেঙ্গালুরু পুলিশে কর্মরত হেড কনস্টেবল এইসসি থিপ্পান্নার দেহ শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। হুলিমাভু ট্রাফিক থানায় কাজ করতেন থিপ্পান্না। বিজয়পুরা জেলার সিংধাগি শহরের কাছে, হান্ডিগানুরু গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। শুক্রবার তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ। চিঠিতে আত্মহত্যার জন্য স্ত্রী ও শ্বশুরের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন থিপ্পান্না। 

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ডিউটি করে বাড়িতে ফিরেছিলেন থিপ্পান্না। সেদিন বাড়ি ফেরার পরেই স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাপক ঝামেলা হয়। এরপর সুইসাইড নোট লিখে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। চিঠিতে থিপ্পান্না লিখেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে নিত্যদিন ঝামেলা হত। তাঁকে রীতিমতো নির্যাতন করতেন স্ত্রী। গত ১২ ডিসেম্বর শ্বশুর তাঁকে অপমান করেন। এও বলেন, তিনি হয় মরে যান, নয়তো নিজেকে যেন শেষ করে ফেলেন। তিনি না মরলে তাঁর মেয়ে শান্তিতে বাঁচবেন না। সেদিনের পর শ্বশুরের সঙ্গে আর কথা বলেননি থিপ্পান্না। এদিকে বাড়িতে ফেরার পরেও স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। 

শুক্রবার সুইসাইড নোট লিখেই চরম পদক্ষেপ নিলেন তিনি। থিপ্পান্নার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।