আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে খুন! তিন দিনের মধ্যেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা খুনের রহস্যভেদ করল পুলিশ। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে দিল্লি এসে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে খুন করেছেন তাঁরা।
মৃত দেবস্মিতা পাল, শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্টস’-এর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বাণশ্রী দাস নামে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা বর্ধমানের বাসিন্দা। দেবস্মিতার সঙ্গে দেখা করার নাম করেই তাঁরা দিল্লি এসেছিলেন। ২০২২ সালে বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদ হয় দেবস্মিতার। তার পর থেকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তাঁর প্রাক্তন স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকেন।
বুধবারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মুখে মাস্ক পরে ওই দম্পতি দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে যাচ্ছেন। একটি প্রাইভেট ক্যাবে কিছু ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। সন্দেহ এড়াতে লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় ওঠেন। সঙ্গে ছোট ছেলে থাকায় কেউ সন্দেহ করেনি। চেনা লোক হওয়ায় দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এর পর তাঁকে খুন করা হয়।
খুনের ঠিক ৩০ মিনিট পর জামাকাপড় বদলে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসেন অভিযুক্তরা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ক্যাবটিতে চড়েই তাঁরা পালিয়ে যান। দেখে সন্দেহজনক লাগায়, পুলিশ ওই ক্যাবচালককে আটকে অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে পারে।
বুধবার ওই আবাসন চত্বরে আসা প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ১৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বেছে নিয়েছিল পুলিশ। ঘটনার তদন্তে ৪টি রাজ্যে একযোগে তল্লাশি চালায় দিল্লি পুলিশের ৭টি দল। শতাধিক মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে বর্ধমান থেকে মূল অভিযুক্তদের ধরা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দাদুর মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে কোটি টাকার একটি সম্পত্তি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা। ধৃত দম্পতি সেই বাড়িরই ভাড়াটে ছিলেন এবং বাড়িটি দখল করার চেষ্টা করছিলেন। অন্য দিকে, দেবস্মিতাও বাড়িটি খালি করার জন্য তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন। সেই কারণেই দেবস্মিতাকে সরিয়ে সম্পত্তি হাতানোর ছক কষেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবারতি পুলিশে খবর দেন। তিনি জানান, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। বোন বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ভেতরে দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল। তাঁর মাথায় গভীর আঘাত ছিল এবং হাতের শিরা কাটা ছিল। তবে ঘর থেকে গয়না বা টাকা চুরি যায়নি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে৷ পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।















