আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় পর্যটকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য থাইল্যান্ড। এই দেশই এবার ভিসার নিয়মে বড় বদল করেছে। ফলে প্রভাবিত হতে পারে থাইল্যান্ড ভ্রমণ। ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগকে সহজ ও সুসংহত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, থাইল্যান্ড ভারত-সহ মোট ৯৩টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য চালু থাকা এবং বহুল ব্যবহৃত ৬০ দিনের ভিসা-মুক্ত থাকার সুবিধা বাতিল করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ড ছিল ভিসা-মুক্ত দেশ। কিন্তু নয়া নিয়মে সেই সুবিধা বাতিল হল।
বিদেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ১৯ মে (২০২৬) ভিসা অব্যাহতি এবং 'ভিসা অন অ্যারাইভাল' সংক্রান্ত সংশোধিত নিয়মাবলি অনুমোদন করেছে।
'এক দেশ, এক ভিসা' সুবিধা:
থাইল্যান্ডে প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট একই ধরনের প্রবেশ সুবিধা থাকবে। ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হবে।
নয়া নিয়ম:
* প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলের জন্য ভিসা অব্যাহতির শুধুমাত্র একটি বিভাগ চালু।
* যোগ্যতাপ্রাপ্ত সকল দেশের জন্য ৬০ দিনের ভিসা-মুক্ত থাকার সুবিধা বাতিল।
* ৩০ দিনের ভিসা অব্যাহতির তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা ৫৭ থেকে কমিয়ে ৫৪ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
* তিনটি দেশের জন্য ১৫ দিনের ভিসা অব্যাহতির একটি নতুন বিভাগ চালু হচ্ছে।
* 'ভিসা অন অ্যারাইভাল'-এর সুবিধার তালিকা ৩১ দেশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৪।
* এই পদক্ষেপগুলি 'রয়্যাল গেজেট'-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার ১৫ দিন পর থেকে কার্যকর হবে।
থাইল্যান্ড কেন ৬০ দিনের ভিসা অব্যাহতির সুবিধা প্রত্যাহার করছে?
পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের ভিসা অব্যাহতির সুবিধাটি চালু করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তা, অবৈধ কর্মসংস্থান, 'নমিনি ব্যবসা' (বেনামি ব্যবসা) এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এই নীতিটি সমালোচনার মুখে পড়ে এবং পর্যালোচনার আওতায় আসে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওরাকুল আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দেশটি তাদের বর্তমান নীতিটি পুনর্বিবেচনা করবে এবং সম্ভবত অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার এখন কেবল দর্শনার্থীদের সংখ্যার দিকেই তাকিয়ে নে, বরং অর্থনৈতিক সুফল ও নিরাপত্তা- উভয় বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে "উচ্চমানের পর্যটক" আকর্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করছে।
যাদের কাছে বর্তমানে অবস্থানের অনুমতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কী ঘটবে?
যেসব পর্যটক বর্তমানে প্রচলিত ভিসা অব্যাহতি প্রকল্পের আওতায় থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন, কিংবা নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটিতে থাকার করার সুযোগ পাবেন।
একবার সংশোধিত ব্যবস্থাটি কার্যকর হয়ে গেলে, পর্যটকদের অবশ্যই নতুন করে নির্ধারিত ভিসা অব্যাহতি বিভাগ, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি (কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) থাইল্যান্ডের ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে।
ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এর অর্থ কী?
ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারতকে ৬০-দিনের ভিসা অব্যাহতি বা ছাড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার সঙ্গে আরও ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও ছিল। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ছুটির জন্য থাইল্যান্ড আরও বেশি আকর্ষণীয় এবং সহজ একটি গন্তব্যে পরিণত হয়েছিল।
তবে সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ভারতকে এখন 'ভিসা অন অ্যারাইভাল' বা 'আগমনকালীন ভিসা'র শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর অর্থ হল, ভারতীয় পর্যটকরা এখন থেকে আর ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে প্রবেশের সুবিধা পাবেন না।
এর পরিবর্তে, থাইল্যান্ডের নির্ধারিত অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে তারা সেখানে পৌঁছানোর পরেই ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন। এই শ্রেণির ভিসার আওতায় অবস্থানের অনুমোদিত মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন। তাই দীর্ঘমেয়াদী ছুটির চেয়ে স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের জন্যই এটি এখন বেশি উপযুক্ত।
কোন তালিকায় কোন দেশ?
ভিসা সংক্রান্ত নিয়মে ব্যাপক পরিবর্তনের পর, থাইল্যান্ডের ভিসার কাঠামোতে এখন নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
৩০-দিনের ভিসা অব্যাহতি: ৫৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এই দেশগুলি হল:
অস্ট্রেলিয়া
ইউক্রেন
ইজরায়েল
মালয়েশিয়া
সিঙ্গাপুর
তাইওয়ান
অস্ট্রিয়া
ফিনল্যান্ড
ইতালি
নেদারল্যান্ডস
স্লোভাকিয়া
তুরস্ক
বাহরিন
ফ্রান্স
জাপান
নিউজিল্যান্ড
স্লোভেনিয়া
ফিজি
বেলজিয়াম
জর্জিয়া
জর্ডান
নরওয়ে
সৌদি আরব
স্পেন
ভুটান
জার্মানি
কুয়েত
ওমান
দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্রুনেই
গ্রিস
কিরগিজস্তান
ফিলিপাইন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
কানাডা
হাঙ্গেরি
লাটভিয়া
পোল্যান্ড
সুইডেন
চেক প্রজাতন্ত্র
আইসল্যান্ড
লিশটেনস্টাইন
পর্তুগাল
সুইজারল্যান্ড
ডেনমার্ক
ইন্দোনেশিয়া
লিথুয়ানিয়া
কাতার
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী
এস্তোনিয়া
আয়ারল্যান্ড
লুক্সেমবার্গ
রোমানিয়া
যুক্তরাজ্য
১৫-দিনের ভিসা অব্যাহতি: সেশেলস, মালদ্বীপ এবং মরিশাসের জন্য প্রযোজ্য।
ভিসা অন অ্যারাইভাল: চারটি দেশের জন্য সীমাবদ্ধ- আজারবাইজান, বেলারুশ, সার্বিয়া এবং ভারত।
৯০-দিনের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি: আর্জেন্টিনা, পেরু, চিলি, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য প্রযোজ্য।
৩০-দিনের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি: চীন, হংকং, রাশিয়া, লাওস, ম্যাকাউ, তিমুর-লেস্তে এবং কাজাখস্তানের জন্য প্রযোজ্য।
১৪-দিনের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি: কম্বোডিয়া এবং মিয়ানমারের জন্য প্রযোজ্য (শুধুমাত্র আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে)।















