আজকাল ওয়েবডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বলেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তারা "অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা" করেছে। এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, জেএনইউএসইউ-এর সঙ্গে যুক্ত একদল শিক্ষার্থী "অত্যন্ত আপত্তিকর, উস্কানিমূলক" স্লোগান দিয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।
জেএনইউ প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে এবং চলমান তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে।
জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের স্লোগান দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই ধরণের স্লোগান জেএনইউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে এবং তা জনশৃঙ্খলা, ক্যাম্পাসের সম্প্রীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের নিরাপত্তা-সুরক্ষা পরিবেশকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতের বিক্ষোভ, স্লোগান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক ও গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রতিষ্ঠিত রীতির প্রতি ইচ্ছাকৃত অসম্মানের ইঙ্গিত। বিবৃতিতে প্রতিবাদ, গালিগালাজ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। প্রশাসন সকল অংশীদারদের এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে এবং ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ, ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটলে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা কর্তার প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে:
জেএনইউ প্রক্টরের কাছে প্রধান নিরাপত্তা কর্তার জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এই সপ্তাহের শুরুতে ক্যাম্পাসে দেওয়া আপত্তিকর স্লোগানগুলো ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত। সেগুলি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তির ফল নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২০ সালের দিল্লি হামলা মামলায় জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামকে সুপ্রিম কোর্ট জামিন দিতে অস্বীকার করার পরেই স্লোগান দেওয়া শুরু হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, ক্যাম্পাসের "গেরিলা ধাবা" এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। স্লোগানধারী হিসাবে অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, কনিষ্ক, পাকিজা খান এবং শুভম-সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে সোমবারের প্রতিবাদ, স্লোগান ছিল প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ, তবে আদালতের রায়ের পর সমাবেশের প্রকৃতি ও সুর উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, "অত্যন্ত আপত্তিকর, উস্কানিমূলক এবং উত্তেজনা সৃষ্টিকারী স্লোগান" দেওয়া হয়েছে, এবং এই কাজটিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি অবমাননা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, স্লোগান দেওয়াটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, জেএনইউ-এর আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে জনশৃঙ্খলা, ক্যাম্পাসের সম্প্রীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্লোগানগুলো স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল, সেগুলো বারবার দেওয়া হয়েছে এবং তা ছিল ইচ্ছাকৃত, যা "কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বা অনিচ্ছাকৃত প্রকাশের পরিবর্তে ইচ্ছাকৃত ও সচেতন অসদাচরণের" ইঙ্গিত দেয়। এই ফলাফলের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
