আজকাল ওয়েবডেস্কঃ চলতি বছরের নিট-ইউজি-র প্রশ্নফাঁস মামলায় নয়া মোড়। এবার এক বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই। পরীক্ষার পদার্থবিদ্যার প্রশ্নফাঁসের উৎস হিসেবে একজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। মণীষা সঞ্জয় হাভালদার নামে এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা গিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ধৃত মণীষা সঞ্জয় হাভালদার মহারাষ্ট্রের পুনের ‘শেঠ হীরালাল সরাফ প্রশালা’-র কর্মী। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ মণীষাকে নিট পরীক্ষার জন্য একজন ‘এক্সপার্ট’ বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ করেছিল। সেই সুবাদেই পরীক্ষার পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র সহজেই তাঁর হাতে এসেছিল। আর সেই সুযোগ নিয়েই তিনি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করেন বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, এর আগে রসায়ন এবং জীববিদ্যার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার অন্তত এক সপ্তাহ আগে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছিল। তবে পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে অনুরোধ করেছিল এনটিএ নিজেই।
তদন্তকারীদের অনুমান, ফাঁস হওয়া পিডিএফ ফাইলগুলিতে বিপুল পরিমাণ প্রশ্ন থাকায়, মূল প্রশ্নপত্রের পাশাপাশি এনটিএ-র অত্যন্ত গোপনীয় 'ব্যাকআপ' বা বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেট থেকেও প্রশ্ন চুরি করা হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত মূল প্রশ্নপত্র কোনও কারণে বাতিল হলে এই ব্যাকআপ সেট ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত, প্রশ্নফাঁস চক্রে এনটিএ-র ভেতরের লোকেদের জড়িত থাকার বিষয়টি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মণীষা হাভালদারের আগেও সিবিআই ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লাতুরের একটি নামী কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর, পুনের একজন অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের লেকচারার পি ভি কুলকার্নি এবং পুনেরই একজন উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মান্ধারে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কুলকার্নি এবং মান্ধারে—উভয়েই চলতি বছরে নিট ইউজি-র বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট-ইউজি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই অফলাইন পরীক্ষায় বসেন। মোট ১৮০টি প্রশ্নের মধ্যে পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন থেকে ৪৫টি করে এবং জীববিদ্যা থেকে ৯০টি প্রশ্ন ছিল। তবে পরীক্ষার পরপরই দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারি সামনে আসায় তোলপাড় শুরু হয়। যার জাল এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুনে এবং লাতুরের শিক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত। তবে এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। পুরো চক্র ফাঁস করতে এখনও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই।















