আজকাল ওয়েবডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের বিরুদ্ধে অনলাইন ভিডিওতে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অনুদীপ কাটিকালার আটক হওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গত ১৪ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে কাঁকিনাড়া পুলিশের একটি দল তাঁকে আটক করে। আইআইটি বোম্বের এই প্রাক্তনী তথা হায়দরাবাদের 'সিলি সাউথ কমেডি ক্লাব'-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুদীপকে বর্তমানে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে ট্রেনে করে কাঁকিনাড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। যদিও আইনজীবীদের মতে, এটি কোনও প্রথাগত গ্রেপ্তার নয়, বরং পুলিশি আটক মাত্র।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ এপ্রিল, যখন পূর্ব গোদাবরী জেলার জনসেনা পার্টির (জেএসপি) এক কর্মী বাড়ে ভেঙ্কট কৃষ্ণা কাঁকিনাড়া টাউন থানায় অনুদীপের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, অনুদীপ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যেখানে পবন কল্যাণ এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিকর ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। ভিডিওটিতে অনুদীপ পবন কল্যাণের বিবাহবিচ্ছেদ এবং তাঁর ভাইপো-ভাইঝিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রসিকতা করেন। বিশেষ করে পবন কল্যাণের একাধিক বিবাহবিচ্ছেদ এবং অভিনেতা রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা কামিনেনির সম্পত্তি নিয়ে তাঁর মন্তব্যগুলি ভক্ত ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) মানহানি, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং নারীদের অবমাননা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে। উল্লেখ্য, পবন কল্যাণের দল জেএসপি বর্তমানে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুদীপের এই ভিডিওটি বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP) পবন কল্যাণকে বিদ্রূপ করতে ব্যবহার করছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনুদীপ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও জেএসপি সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। অভিযোগ উঠেছে যে, হায়দরাবাদের একটি কমেডি ক্লাবে ঢুকে একদল যুবক অন্য এক কমেডিয়ানকে ভয়ভীতি দেখায় এবং অনুদীপের ফোন নম্বর দাবি করে। জেএসপি নেতা সন্দীপ পাঞ্চাকর্লা এবং কিরণ রয়্যাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনুদীপের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। অন্যদিকে, শিল্পী মহল এবং সহ-কমেডিয়ানরা এই পুলিশি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। হায়দরাবাদের শিল্পী তাবিথা পার্সি এবং কমেডিয়ান বিবেক মুরলীধরনের মতে, রাজনৈতিক বা সেলিব্রিটিদের নিয়ে রসিকতা করার জন্য পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা বাক-স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত।
ভারতের প্রেক্ষাপটে কমেডিয়ানদের বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ এই প্রথম নয়। এর আগে মুনাওয়ার ফারুকি, বীর দাস, কুনাল কামরা এবং অতি সম্প্রতি সময় রায়নার মতো শিল্পীরাও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। অনুদীপের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, ভারতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা রসিকতা করা বর্তমানে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পবন কল্যাণ বা রাম চরণের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো শান্তিমূলক বিবৃতি আসেনি, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা বজায় রেখেছে।















