আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। তাঁর মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান হল তা বলাই যায়। তাঁর মৃত্যুর পরেই প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিন দিন আগে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, অজিত পাওয়ার ফিরতে পারেন জোটে। শনিবার তিনি দাবি করেছিলেন, এনসিপি–র দুই গোষ্ঠী খুব শীঘ্রই হাত মেলাবে। তাঁর দাবি ছিল, অজিত পাওয়ারের মন আসলে তাঁর পরিবারের সঙ্গেই আছে। তাই তিনি ফের এমভিএ (মহাবিকাশ আঘাড়িতে) ফিরে আসবেন। তার ৭২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার।

সাংবাদিকদের রাউত জানিয়েছিলেন, রাজ্যের আসন্ন জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনে শরদ পাওয়ার ও অজিত পাওয়ারের গোষ্ঠী একসঙ্গেই লড়বে। রাউতের দাবি ছিল, তলে তলে দুই এনসিপি আসলে মিশেই গিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘‌অজিত পাওয়ার এখন মহাজুটিতে থাকলেও তাঁর টান এমভিএ–র দিকেই। শরদ পাওয়ার ও অজিত পাওয়ার একজোট হয়ে এমভিএ–তেই থাকবেন। বেশি দিন দুই নৌকোয় পা দিয়ে চলা অজিতের পক্ষে সম্ভব নয়।’‌

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন অরূপ চক্রবর্তী। তিনি লিখলেন, " মাত্র চার দিন আগেই শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে অজিত পাওয়ার বিজেপির জোট থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধী মহাগটবন্ধনে (বিশেষত কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে) যুক্ত হতে চান। আর আজ সকালেই বিমান ভেঙে তাঁর রহস্যময় মৃত্যু হল। জাস্টিস বি এইচ লোয়া অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুজরাট দাঙ্গা মামলায় রায় দেওয়ার ঠিক আগেই পার্কে মর্ণিংওয়াক করতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে মারা যান। গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণির প্লেন ক্র‍্যাশ করে মৃত্যু হয়েছে। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের চপার ভেঙে মৃত্যু। আজ অজিত পাওয়ারের মৃত্যু। 
এই তালিকা আরও অনেক বড়, তাই আমরা কিছুই বলছি না, শুধু অমিত শাহের অন্য প্রসঙ্গে বলা বিখ্যাত ডায়লগটা বড় মনে পড়ছে আজ "আপ ক্রোনোলজিকো সমঝিয়ে"।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অজিত পাওয়ার বিধায়কদের নিয়ে শিন্ডে সরকারে যোগ দিলে এনসিপি ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায়। অজিতের গোষ্ঠী দলের নাম ও ‘ঘড়ি’ প্রতীক পেলেও শরদ পাওয়ারের দল নতুন নামে পরিচিত হয়। তবে সম্প্রতি পুণে ও পিম্পরি–চিঞ্চওয়াড় পুরভোটে দুই পক্ষ জোট বেঁধেছিল। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পুরভোটের তৃতীয় দফাতেও তারা অজিতের দলের ‘ঘড়ি’ চিহ্ন নিয়েই একসঙ্গে লড়ার কথা ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, বিজেপি–র সঙ্গে একনাথ শিন্ডের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়েও মুখ খুলেছিলেন রাউত। তাঁর দাবি, মুম্বই পুরসভার (বিএমসি) মেয়র পদ নিয়ে বিজেপি–র ওপর শিন্ডে বেজায় চটেছেন। দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বও এই নিয়ে মাথা নোয়াতে নারাজ। বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি ৮৯টি ও শিন্ডের শিবসেনা ২৯টি আসন পাওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। শিন্ডে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু না বললেও দাবি করেছিলেন, মুম্বইয়ের মেয়র মহাজুটিরই কেউ হবেন।

কিন্তু বিধি বাম। একজোট হওয়া আর হল না। প্রসঙ্গত, বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার। বুধবার সকালে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় ভেঙে পড়ে তাঁর বিমানটি। ডিজিসিএ সূত্রে খবর, পাওয়ার ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানে থাকা আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই পাইলট, একজন বিমানকর্মী এবং পাওয়ারের দেহরক্ষী।

 প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই এক জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ওড়ার ঘণ্টাখানেক পরেই ঘটে বিপত্তি। সকাল ৯টা নাগাদ অবতরণের ঠিক আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় সেটিতে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কেবল দুমড়ে–মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ আর কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া দেখতে পায়।

এটা ঘটনা, মহারাষ্ট্রের এই অঞ্চলে বিমান বা হেলিকপ্টার বিভ্রাট এই প্রথম নয়। গত অক্টোবর মাসেই এনসিপি নেতা সুনীল তটকরেকে আনতে গিয়ে একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারামতীতে এর আগেও একাধিকবার জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে ভিভিআইপিদের।

 অজিত পাওয়ার মানেই ছিল মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পৃথ্বীরাজ চৌহান থেকে একনাথ শিন্ডে সহ চারজন মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১ সালে কাকা শরদ পাওয়ারের ছেড়ে দেওয়া বারামতী বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তাঁর উত্থান। তারপর টানা সাতবার সেখান থেকে জিতে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির হাত ধরা কিংবা ২০২৪–এ লড়াই করে দলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া–বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া।