আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। তিনি-সহ সেই বিমানে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে ডিজিসিএ। বুধবার দুপুরেই তদন্ত কমিটির তরফে ঘোষণা করা হল, দুর্ঘটনার আসল কারণ।
এদিন দুপুরে ডিজিসিএ-এর তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ৮টা নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল চাটার্ড বিমানটি। সকাল ৮.৪৫ তে বারামতীতে ভেঙে পড়ে চাটার্ড বিমানটি। জরুরি অবতরণের আগেই আছড়ে পড়ে সেটি। উড়ানের ৪৫ মিনিট পরেই মুখ থুবড়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটিতেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ভেঙে পড়া চাটার্ড বিমানের বয়স ১৫ বছর। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত চলছে এখনও।
ডিজিসিএ-এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিমানটিতে দু'জন ক্রু মেম্বার এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। ক্রু মেম্বারদের তরফে কোনও মে-ডে কল করা হয়নি। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এদিন বারামতীতে দৃশ্যমানতার সমস্যা ছিল। রানওয়ে দেখা যায়নি।
আরও জানা গেছে, প্রথমবার অবতরণের সময় রানওয়ে দেখতে পাননি পাইলট। অবতরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে পাইলট আকাশে এক চক্কর কেটে, দ্বিতীয়বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করেন। সেই সময় রানওয়ে থেকে ১০০ ফুট দূরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মাটিতে ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।
লিয়ারজেট ৪৫ মডেল–এর ‘ভিটি–এসএসকে’ বিমানটি বম্বার্ডিয়ার এরোস্পেস সংস্থার তৈরি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। এর আগে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল।
তদন্তের পর জানা গিয়েছিল বিশাখাপত্তনম থেকে উড়ান স্বাভাবিকই ছিল বিমানটির। যাত্রাপথেও কোনও সমস্যা হয়নি। বিপত্তি ঘটে অবতরণের সময়েই। মুম্বই বিমানবন্দরে তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। দৃশ্যমানতাও কিছুটা কমে গিয়েছিল। বিমানটি ২৭ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি পেয়েছিল। ওই অবতরণের চেষ্টার সময়ই ভেঙে পড়েছিল বিমানটি।
