আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার। আজ বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের বারামতীতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে তাঁর। এদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। 

বুধবার চাটার্ড বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ভেঙে পড়ার পরেই আগুন ধরে যায় ওই বিমানে। পুড়ে যাওয়া দেহগুলি কার, তা প্রথমে বোঝা যাচ্ছিল না। শেষমেশ হাতঘড়ি এবং পোশাক দেখে অজিতের দেহ শনাক্ত করা হয়। মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত। গতকাল তিনটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। উড়ানের ৪৫ মিনিট পরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিমানটি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অজিত পাওয়ারের মরদেহ রাখা রয়েছে বিদ্যা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে। শেষবার শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে সেখানেই অনুগামী ও দলীয় কর্মী, সমর্থকদের ভিড় জমেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অগণিত সমর্থক ও অনুগামী। অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যে হাজির থাকবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। 

সূত্রের খবর, বারামতীতে অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যে হাজির থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রে তিনদিন শোক পালনের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই আবহে মহারাষ্ট্রের সমস্ত স্কুল আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সমস্ত সরকারি দপ্তরও। এই তিনদিন অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রে গতকাল থেকে শোক পালন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানিয়েছেন, বুধবার থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ থাকবে। এই তিনদিন সমস্ত সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। 

রাজ্য সরকারের সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনদিন রাজ্যে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে সরকারি অফিসও। 

ডিজিসিএ-এর তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে দু'জন ক্রু মেম্বার এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। ক্রু মেম্বারদের তরফে কোনও মে-ডে কল করা হয়নি। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এদিন বারামতীতে দৃশ্যমানতার সমস্যা ছিল। রানওয়ে দেখা যায়নি। 

আরও জানা গেছে, প্রথমবার অবতরণের সময় রানওয়ে দেখতে পাননি পাইলট। অবতরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে পাইলট আকাশে এক চক্কর কেটে, দ্বিতীয়বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করেন। সেই সময় রানওয়ে থেকে ১০০ ফুট দূরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মাটিতে ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।