আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। বুধবার। ভারতের রাজনীতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিমান বিপর্যয় এবং মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিমান ভেঙে পড়ার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল, মুহূর্তে জ্বলে যায় সবকিছু। দেহ ঝলসে যায়। ঘড়ি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস দেখে অজিত পাওয়ারের দেশ শণাক্ত করা হয়। দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই, কারণ জানা না গেলেও, তার পর থেকেই একে একে নানা সম্ভাব্য কারণ সামনে আসতে শুরু করে। শুরু হয় একাধিক জল্পনাও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে একটি তথ্য সামনে এসেছে। তথ্য, বারামতীতে অবতরণের আগে, কপ্টারের পাইলট রানওয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন না। যদিও তার কারণ এখনও জানা যায়নি।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, উড়ান সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রথম দিকে সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ছ’কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায় এবং তার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৩৬ কিলোমিটার। উড়ানের ২৪ মিনিট পর কিছু সময়ের জন্য বিমানটি নজরদারি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক মিনিট পরে আবার সেই সঙ্কেত ফিরে এলেও সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই সময়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানের উচ্চতা নেমে এসেছিল প্রায় ১০১৬ মিটারে এবং গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার, যা অবতরণের সময় স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। সকাল ৮টা ৪৪ মিনিট নাগাদ এটিসি-র সঙ্গে বিমানের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক পরে জানায়, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে প্রথম বার বারামতীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি। দ্বিতীয় বার যোগাযোগ হয় বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন। তখন পাইলটদের ‘ভিজ়্যুয়াল মিটিওরজিক্যাল কন্ডিশন’ অনুযায়ী নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাইলটেরা হাওয়ার গতি ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জানানো হয়, বাতাস স্বাভাবিক এবং দৃশ্যমানতা প্রায় ৩ হাজার মিটার। তবু শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রথম চেষ্টায় রানওয়ে দেখতে পাননি।
সেই তথ্য বিমান চালক সেই মুহূর্তেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অর্থাৎ এটিসি'কে জানিয়েছিলেন বলেও খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। এই প্রসঙ্গে তথ্য, বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথমবার অবতরণ করার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)–এর তরফে বিমানটির পাইলটকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি না। জবাবে পাইলটের তরফে নেতিবাচক উত্তর আসে। বিমানটি আর এক চক্কর কেটে দ্বিতীয়বার অবতরণ করার চেষ্টা করে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার একই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন পাইলট। তারপরেই বিমানটিকে অবতরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় অবতরণ করার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি।
অন্যদিকে, এই তথ্য নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই জানা যায়, বুধবার সকালে বারামতীতে অজিত পাওয়ারের বিমান ভেঙে পড়ার ঠিক আগে ককপিট থেকে ভেসে এসেছিল দু’টি শব্দ। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। দুই বিমানকর্মী (একজন পাইলট, অপর জন ফার্স্ট অফিসার)–র মধ্যে কোনও একজন চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন, ‘ওহ শিট’!
বৃহস্পতিবারই বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ব্ল্যাক বক্সেই বিমানের সমস্ত ডেটা রেকর্ড থাকে। রেকর্ড থাকে ককপিটের কথোপকথন। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হওয়ার পর তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেটি পরীক্ষা করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় বারামতী বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। ফলে দৃশ্যমানতাও কম ছিল। সেই কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বুধবার দৃশ্যমানতা কম থাকার কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুও। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ডিজিসিএ এবং এএআইবি (বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানটি অবতরণ করার সময় দৃশ্যমানতা কম ছিল।’
