আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের বারামাতি বিমানবন্দরে বুধবার সকালে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা পাঁচজনের সকলের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ‘অকারেন্স রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় ক্র্যাশ-ল্যান্ডিং করে এবং কোনও আরোহীই প্রাণে বাঁচেননি।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ভিএসআর এভিয়েশন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল এবং এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল VT-SSK। রিপোর্ট অনুযায়ী, বারামাতিতে নামার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। বিমানে মোট পাঁচজন ছিলেন—অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, একজন সহকারী, পাইলট-ইন-কম্যান্ড এবং ফার্স্ট অফিসার।
বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ একটি টুইন-ইঞ্জিন হালকা বিজনেস জেট, যা সাধারণত কর্পোরেট ও ভিআইপি যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। ছোট আকার ও উচ্চগতির কারণে এই ধরনের বিমান স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে, এমনকি বারামাতির মতো আঞ্চলিক বিমানবন্দরেও ব্যবহারের উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের শেষ পর্যায়ে বিমানটি কোনও সমস্যার মুখে পড়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত স্থানীয় বিমানবন্দর কর্মী ও জরুরি পরিষেবার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বিমানটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং বেঁচে থাকার কোনও চিহ্ন মেলেনি।
ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। তদন্তকারীরা পাইলটদের মধ্যে কথোপকথন, বিমানের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং অবতরণের সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।
ভিএসআর এভিয়েশন মূলত ব্যবসায়িক যাত্রী ও মেডিভ্যাক পরিষেবার জন্য চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাদের ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে, ৬০ জনেরও বেশি পাইলটের একটি দল রয়েছে। তবে কীভাবে এই ধরণের একটি বিমানে এমন দুর্ঘটনা হল সেদিকে খতিয়ে দেখা হবে।
তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালেও ভিএসআর-সংযুক্ত একটি লিয়ারজেট দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। সেই ঘটনায় মুম্বই বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতার মধ্যে বিমানটি ক্র্যাশ-ল্যান্ডিং করলেও সকল আরোহী প্রাণে বেঁচে যান। এবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মহারাষ্ট্র ও দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
