আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ১৭১ দুর্ঘটনায়ভেহে পড়েছিল গত বৃহস্পতিবার। ভয়ঙ্কর ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ২৪১ জন সওয়ারী। মৃত্যু হয়েছে ২৪ জন ডাক্তারি পড়ুয়ারও। ফ্লাইট এআই ১৭১ নাম শুনলেই এখন আতঙ্ক! দুর্ঘটনার জেরে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সংস্থার কোনও উড়ানেই ১৭১ ব্যবহার করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাত্রীদের সব ধরণের মানসিক আঘাত কমাতেই বিমান সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এয়ান ইন্ডিয়ার এক আধিকারিক হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, "আমেদাবাদ থেকে গ্যাটউইক [লন্ডন] যাওয়ার ফ্লাইটটির নম্বর বদল হয়ে হবে এওয়ান ১৫৯।  ফিরতি ফ্লাইটটির নম্বর পাল্টে হবে এওয়ান ১৬০।"  এই নম্বর পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের সেদিনের বীভৎস স্মৃতি খানিকটা হলেও ভুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিমান সংস্থাটি এখনও উড়ানের নম্বর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে অমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনের গ্যাটউইকগামী বিমান এআই১৭১। ওড়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে অহমদাবাদের মেঘানিনগরে ভেঙে পড়ে সেটি। বিমানে সওয়ার ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। এক জন আরোহী বেঁচে যান। বিশ্বাসকুমার রমেশ নামে ওই যাত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। বিমানটি বসতি এলাকায় ভেঙে পড়ে।

এই ধরণের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ফ্লাইটের নম্বর পরিবর্তন করা বিমান শিল্পে নজিরবিহীন নয়। এই ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য হল, মর্মান্তিক ঘটনা থেকে মানবমন-কে আলাদা করা। একজন প্রাক্তন বিমান সংস্থা কর্মকর্তা বলেছেন, "এটি যাত্রী এবং ভ্রমণকারীদের মনে ট্র্যাজেডি থেকে রুটকে আলাদা করার একটি উপায়।" 

বোয়িং বিমান দুর্ঘটনার জেরে, এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন টাটা গ্রুপ প্রতিটি নিহতের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। মন্ট্রিল কনভেনশন চুক্তি অনুসারে এয়ার ইন্ডিয়া প্রতি নিহতের জন্য প্রায় ১.৫ কোটি টাকা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রিক ক্ষতিপূরণ প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা অনুমান করা হচ্ছে। 

ইতিমধ্যে, তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আংশিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। এই দুর্ঘটনা বিমান সংস্থাগুলির নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। এই ঘটনাটি চলমান নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং বিমান চলাচলের মান উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।