আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোখের জলে ভিজে গেছে অ্যালবামের পাতা। লাল টালি দেওয়া মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছেন মা, এক বোন, এক দিদি। সকলের হাতে ঘুরছে পুরোনো পারিবারিক ছবির অ্যালবাম। কারণ, সেই অ্যালবামই হয়তো এখন ভরসা বাড়ির মেয়ে নগানথোই শর্মাকে দেখার জন্য। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে ভেঙে পড়া লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের কেবিন ক্রু ছিলেন নগানথোই। বিমানটির গন্তব্য ছিল ব্রিটেনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। 

কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছাকাছি এক ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে। খবর পেয়েই নগানথোইয়ের পরিবারের সদস্যরা একত্র হন। কেউ একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ চোখের জলে ভেসে যাচ্ছেন। আতঙ্ক, অসহায়তা আর গভীর শোকের ছবি ধরা পড়েছে পেশায় এয়ার হোস্টেস নগানথোইয়ের পরিবারে। এক মহিলাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘এই হাত দিয়ে বড় করলাম তোকে। আমি তোকে দেখতে চাই...। আর এক মহিলাকে ভারী গলায় বলতে শোনা যায়, ‘আমার ফোনটা দাও... আমি ওর ছবি দেখতে চাই’। প্রসঙ্গত, ডিজিসিএ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, উড়ানের সময় মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতা থেকে প্রতি মিনিটে ৪৭৫ ফুট হারে নিচে নামতে শুরু করে বিমানটি।

?ref_src=twsrc%5Etfw">June 12, 2025

পাইলটদের হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ছিল মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়। জানা গিয়েছে, উড়ানের সামান্য সময়ের মধ্যেই বিমানটি একটি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণকার্য শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে ডিজিসিএ। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৫০জনকে নিয়ে ওই বিমানটি ভেঙে পড়ে একটি বাড়ির উপর। টুকরো টুকরো হয়ে যায় বিমানটি। জ্বলে গিয়েছে ওই বাড়িটি, আশেপাশের বাড়িতে, গাড়িতে এমনকী গাছেও আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকলবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে আশেপাশের বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।