আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ ছিল চীন ও ভারতের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা। তবে সেই পরিষেবা আবার চালু হচ্ছে। চীনের এয়ারলাইন্স এয়ার চায়না বেজিং থেকে দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট আবার শুরু করবে বলে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘোষণা করেন ভারতের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘এই ফ্লাইট শুধু দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের সরাসরি ব্যবস্থাই নয়, পাশাপাশি এক বড় কূটনৈতিক গুরুত্বও আছে।’ এদিকে ভারতের বিমান সংস্থা ইন্ডিগো দিল্লি থেকে সাংহাই রুটে সরাসরি বিমান চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই উড়ান চালু হলে উক্ত রুটে তৃতীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে যুক্ত হবে ইন্ডিগো।
এটা ঘটনা, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এয়ার ইন্ডিয়া সাংহাই–দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছিল। এই উড়ান ছয় বছর পর পুনরায় শুরু হয়। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চায়না ইস্টার্ন সাংহাই থেকে দিল্লি রুটে ফ্লাইট চালু করে।
ভারত ও চীনের সম্পর্ক কয়েক বছর ধরে খারাপ ছিল। তার অন্যতম কারণ সীমান্ত সমস্যা। ২০২০ সালে গালওয়ান ভ্যালি সংঘর্ষ এই উত্তেজনা আগুনে ঘি ঢালে। লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ৪ জন চীনা সেনারও মৃত্যু হয়। এটাই ছিল ৪৫ বছরের মধ্যে প্রথম এত বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। ভারত চীনের ওপর অনেক কড়াকড়ি আনে। অনেক চীনা অ্যাপ ব্যান করা হয়। ব্যবসা, বিনিয়োগ, ভিসা ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে। সীমান্তে সেনা মোতায়েনও অনেক বাড়ানো হয়। ২০২০ থেকে কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি টানটান ছিল। বারবার সামরিক বৈঠক হয়েছে। কিছু জায়গায় সেনা সরানো হয়েছে। কিন্তু পুরো সমস্যা মেটেনি। ২০২৩ সালের আগস্টে নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিং দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে বিআরআইসিএস সম্মেলনে দেখা করেন। সেখানে উত্তেজনা কমানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে নরেন্দ্র মোদি চীন সফর করেন। তিনি শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক হয় এমন সময় যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং দিল্লিতে জানান, চীন ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির বিরোধিতা করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আবার বিমান পরিষেবা চালু হওয়া সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি শুধু ভ্রমণ নয়, বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। ধীরে ধীরে ভারত–চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
