আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার দুপুর। ১৪ ঘণ্টা আগে ভেঙে পড়ে আহমেদাবাদ-লন্ডনগামী বিমান। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একজন ছাড়া, বিমানে থাকা ২৪১ যাত্রী মৃত। পিটিআই সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত শহরের সিভিল হাসপাতালে মোট ২৬৫টি মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ওই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের পড়ুয়াদের দেহও।
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে গিয়েছেন মাত্র একজন। বিশ্বাস কুমার রমেশ। তিনি জানিয়েছেন ভয়াবহ, শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা। শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী দেখা করেছেন তাঁর সঙ্গে।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ঝলসে যাওয়া দেহগুলির শনাক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে ২০০ ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে। বেশকিছু দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে ইতিমধ্যে। কিছু দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে, সূত্রের খবর তেমনটাই।
আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান। যেটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ছিল। বিমানের যাত্রীদের মধ্যে মাত্র এক জন আশ্চর্যরকম ভাবে বেঁচে গিয়েছেন। বাকি সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমানবন্দরের নিকটবর্তী ডাক্তারদের একটি হস্টেল ভবনে গিয়ে ধাক্কা মারে বিমানটি। যার ফলে হস্টেল এবং তার আশপাশেও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের বাইরে ঘটে যাওয়া এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের দুটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ, বিমানযাত্রী এবং কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই দুর্ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বেশ কয়েকজন দক্ষ পাইলট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নও তুলেছেন।
বিমান বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন অমিত সিং এবং ক্যাপ্টেন মনোজ হাতি জানিয়েছেন, বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার সাধারণত উড়ানের পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে বন্ধ করা হয়। যখন বিমান সঠিক উচ্চতায় পৌঁছে যায়। কারণ গিয়ার বন্ধ না করলে ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পায় এবং বিমানের গতি হ্রাস পায়।
দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপর্যয় এড়াতে বিমানের সামনের অংশ তুলে ধরেছিলেন দুই পাইলট। এর ফলে বিমানের গতি কমে যায় এবং তারপরেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। অমিতের মতে, এই পদক্ষেপ না করলেও বিমানের গ্লাইডিং পথ অনিবার্যভাবে দুর্ঘটনার কারণ হত।
