আজকাল ওয়েবডেস্ক: আম আদমি পার্টির (আপ) বেশ কয়েকজন কর্মী, তারকা ক্রিকেটার এবং রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হরভজন হলেন রাজ্যসভার সেই সাতজন সাংসদের একজন, যাঁরা দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাঁর বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ‘গদ্দার’ (বিশ্বাসঘাতক) লিখে দিয়েছেন।
পাঞ্জাবে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। আপ-এর সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ (রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্তা, অশোক মিত্তল এবং বিক্রম সাহনি) দলবদল করেছেন। তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে আপ দলের কর্মী ও নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
রাঘব চাড্ডা ও আরও ৬ জন আপ ছাড়লেন:
অরবিন্দ কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির (আপ) জন্য এক বড় ধাক্কা, রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল শুক্রবার আপ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় চাড্ডা দাবি করেন যে, আপ-এর উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ তাঁর সঙ্গে দলবদল করতে প্রস্তুত। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আপ-এর জন্য যা বড়সড় ধাক্কা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রাজ্যসভায় আপ-এর হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী আমরা দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ভারতের সংবিধানের বিধানসমূহ প্রয়োগ করে নিজেদের বিজেপির সঙ্গে একীভূত করে নিচ্ছি।” কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে ‘সৎ রাজনীতি’র পথ থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলেছেন চাড্ডা। উল্লেখ্য, আপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই দিল্লিতে ক্ষমতায় এসেছিল।
৩৭ বছর বয়সী চাড্ডা দলের একেবারে শুরু থেকেই কেজরিওয়ালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং দিল্লির ‘মডার্ন স্কুল’-এর প্রাক্তনী তিনি। ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট কোরাপশন’ আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে, যখন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই তিনি প্রথম কেজরিওয়ালের সংস্পর্শে আসেন। খুব দ্রুতই তিনি আপ-এর জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দলের একটি বিশিষ্ট মুখ হয়ে ওঠেন এবং মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তাঁকে দলের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
একযোগে দলত্যাগ করার মাধ্যমে এই আপ সাংসদরা সংবিধানের দশম তফসিলে বর্ণিত ‘দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দল একীভূতকরণের’ বিধানটি প্রয়োগ করেছেন। এই বিধানের ফলে তাঁদের রাজ্যসভার আসন বহাল থাকছে।















