আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে এই হাতটাই অরবিন্দ কেজরিওয়ালরকে স্বাগত জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই হাতটাই বিশ্বাসঘাতকতা করল কেজরিওয়ালের সঙ্গে। 

অশোক মিত্তল বৃহস্পতিবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনিই ২০২৪ সালে কেজরিওয়ালের জেল থেকে জামিনে মুক্তির পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিজের সরকারি বাসভবনে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

দিল্লির ফাইভ ফিরোজ শাহ রোডে অবস্থিত বাংলোটি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছিল মিত্তলের নামে। সেখানে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছেন কেজরিওয়াল।

গত ২৪ এপ্রিল কেজরিওয়াল মিত্তলের বাসভবন ছেড়ে লোধি এস্টেটের টাইপ-৭ সরকারি বাংলোয় ওঠেন। সর্বভারতীয় একটি দলের প্রধান হওয়ার সুবাদে কেন্দ্রের তরফে কেজরিকে এই বাসভবন বরাদ্দ করা হয়।

কিন্তু এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় আম আদমি পার্টি। অশোক মিত্তল আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। মিত্তলের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতা দলত্যাগ করেন।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানি। জানা গিয়েছে, আপের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তির খবর সামনে আসছিল।

শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি। গত ২ এপ্রিল প্রথমবার আপের মধ্যে ভাঙনের ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসে। ওইদিনই কেজরিওয়াল রাজ্যসভায় দলের ডেপুটির পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে দায়িত্ব দেন।

চাড্ডার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁকে ‘চুপ করিয়ে’ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। এদিকে স্বাতী মালিওয়ালের নাম এই তালিকায় থাকাটাও খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।

২০২৪ সালের মে মাসে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহকারী বৈভব কুমার তাঁকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছিলেন।

সেই ঘটনার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, অসন্তুষ্ট সাংসদদের কেজরিওয়াল আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তাঁরা চাইলে এখন পদত্যাগ করতে পারেন।

ভবিষ্যতে পরবর্তী মেয়াদে তাঁদের টিকিট দেওয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ইস্যুতে বৈঠকের জন্য সাংসদদের নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন কেজরিওয়াল। তবে সেই বৈঠক আর হয়নি। কারণ, তার আগেই নেতারা দল ছাড়ার ঘোষণা করে বিজেপিতে যোগ দেন।